
বীরভূমে তৃণমূলের ‘মিশন ১১-০’ ঘোষণা করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চপারের যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারে চেপে বীরভূমে পৌঁছানোর পরই জনসভার মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের ১১টি আসনের সবকটিতেই জয় ছিনিয়ে আনতে হবে তৃণমূলকে। একইসঙ্গে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৪টি আসন জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে তিনি দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করলেন।
এই জনসভা বীরভূমের রাজনৈতিক মাটিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে।সোমবার দুপুরে অভিষেকের চপারে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ফলে তাঁর বীরভূমে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সৌজন্যে তাঁর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিষেক শেষ পর্যন্ত বীরভূমের সিউড়ি পৌঁছান। মঞ্চে উঠে তিনি প্রথমেই হেমন্তকে ধন্যবাদ জানান এবং হাসতে হাসতে বলেন, “আজ একটা নতুন অভিজ্ঞতা হল।
Tejas Mk-2 সম্পর্কে বড় আপডেট, প্রথম ফ্লাইট সম্পর্কে এই তথ্য প্রকাশ্যে
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর চপারে চড়ে বীরভূমে এলাম। এটাই তো ফেডারেলিজমের সৌন্দর্য!” জনতার হাসি আর করতালির মধ্যে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করলেন।অভিষেকের মূল বার্তা ছিল সংগঠনকে শক্ত করা এবং ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। তিনি বলেন, “বীরভূমে ১১টা আসন। এবার আমাদের টার্গেট ১১-০। একটি আসনও ছাড়া যাবে না।” তাঁর এই ঘোষণায় মঞ্চের সামনে জমায়েত হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন।
বীরভূম তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হলেও ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এখানে দলকে দু’টি আসন ছাড়তে হয়েছিল বিজেপির কাছে। সেই ক্ষতে এবার প্রলেপ দেওয়ার লক্ষ্যেই অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক লক্ষ্যমাত্রা। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “যারা ভাবছেন বীরভূমে তৃণমূল দুর্বল হয়েছে, তাদের জবাব দেব আমরা। ১১-০ করে দেখিয়ে দেব।”একইসঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক ছবি তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “২০২৬-এ তৃণমূল ২১৪টি আসন পাবে। এটা আমার ভবিষ্যদ্বাণী।”
তাঁর এই সংখ্যাটি শুধু আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, দলের অন্দরে একটা স্পষ্ট বার্তা ২০২১-এর ২১৩টি আসনের থেকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য। অভিষেকের এই দাবি শুনে বিরোধী শিবিরে ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা একে ‘অহংকার’ বলে কটাক্ষ করছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে এটাকে কর্মীদের জন্য নতুন এনার্জি বলে মনে করা হচ্ছে।জনসভায় অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বাংলাকে ১ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এক টাকাও দেয়নি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী সব আমরা নিজেদের টাকায় চালাচ্ছি।” তিনি দাবি করেন, এই বঞ্চনা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলা উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। বীরভূমের প্রসঙ্গে তিনি স্থানীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেন, “অহংকার করবেন না। মানুষের পাশে থাকুন। যারা দলের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের ছেড়ে দেব না।”










