নয়াদিল্লি: দিল্লির আদালতগুলোতে শিশু যৌন নির্যাতনের (POCSO case)মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রথমবারের মতো, পোকসো (প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস) আইনের অধীনে নিবন্ধিত মামলার সংখ্যার চেয়ে বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে রাজধানীর আদালতগুলোতে। সারা বছরে নতুন করে ১,০০৬টি পোকসো মামলা দায়ের হয়েছে, কিন্তু নিষ্পত্তি হয়েছে ১,৭৯২টি।
এর ফলে নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ১৭৮ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই অগ্রগতি শুধু দিল্লির জন্য নয়, সারা দেশের জন্যও একটি আশার আলো জ্বালিয়েছে। জাতীয়ভাবে ২০২৫ সালে ৮০,৩২০টি নতুন পোকসো মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৭,৭৫৪টি, যা নিষ্পত্তির হার ১০৯ শতাংশ।এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (এফটিএসসি) এবং এক্সক্লুসিভ পোকসো কোর্টগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রম।
দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে সল্টলেক দফতরে বিজেপি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
দীর্ঘদিন ধরে পোকসো মামলাগুলোতে মামলাজট একটি বড় সমস্যা ছিল। শিশু ভুক্তভোগীদের মানসিক আঘাত কমাতে দ্রুত বিচারের প্রয়োজনীয়তা সবাই স্বীকার করেন, কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। ২০২৫ সালে এসে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইন্ডিয়া চাইল্ড প্রটেকশনের একটি প্রতিবেদন ‘পেন্ডেন্সি টু প্রটেকশন’-এ বলা হয়েছে, এটি একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’ যেখানে বিচারব্যবস্থা মামলাজট কমাতে শুরু করেছে, শুধু পরিচালনা করছে না।
প্রতিবেদনের গবেষক পুরুজিত প্রহরাজ বলেছেন, “যখন নিষ্পত্তি নিবন্ধনের চেয়ে বেশি হয়, তখন বিচারব্যবস্থা উদ্দেশ্য থেকে প্রভাবে পৌঁছায়। দীর্ঘস্থায়ী বিলম্ব শিশু ভুক্তভোগীদের ট্রমা বাড়ায়।”দিল্লিতে এই অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ রাজধানী পোকসো মামলার পরিমাণে দেশে চতুর্থ স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গের পরে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দিল্লিতে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ছিল ৩,৫১৫টি।
এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মামলা ছয় বছরেরও পুরনো। কিছু মামলা তো দশকেরও বেশি পুরনো। এই পুরনো মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে গিয়ে আদালতগুলোকে বিশেষ প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে। ফলে নতুন মামলার পাশাপাশি পুরনো ব্যাকলগও কমছে।তবে এই আশার ছবির পাশে রয়েছে উদ্বেগের কারণও। পেন্ডিং মামলাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই দীর্ঘদিনের, যা ভুক্তভোগী শিশুদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। এছাড়া কনভিকশন রেট নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দিল্লির কিছু তথ্য অনুসারে, পুরনো মামলাগুলোতে অ্যাকুইটালের হার বেশি। এর কারণ হিসেবে তদন্তের ত্রুটি, সাক্ষীদের অনুপস্থিতি বা ফরেনসিক রিপোর্টে বিলম্বকে দায়ী করা হয়।দেশজুড়ে ২৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ১০০ শতাংশের বেশি নিষ্পত্তি হার অর্জন করেছে।
এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সঠিক উদ্যোগ নিলে মামলাজট কমানো সম্ভব। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, আরও ৬০০টি এক্সক্লুসিভ পোকসো কোর্ট গঠন করতে, যার জন্য চার বছরে প্রায় ১,৯৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। এই অর্থ নির্ভয়া ফান্ড থেকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
