
বিধানসভা নির্বাচনের আর প্রায় পাঁচ মাস বাকি থাকলেও রাজনৈতিক উত্তাপ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। এসআইআর আবহে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক সভা করে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পাল্টা রাজনীতির ময়দানে নামছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi rally in Nadia)। শনিবার নদিয়ার তাহেরপুরে বিজেপির একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় অংশ নিতে আসছেন তিনি। এই সভাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নদিয়া জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতিতে তাহেরপুর এলাকাকে কার্যত গেরুয়া রঙে মুড়ে ফেলা হয়েছে। রাস্তার ধারে ধারে বিজেপির পতাকা, ব্যানার ও হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। সভাস্থলের আশপাশে পোস্টার ও ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই সভা থেকে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে নতুন দিশা পাওয়া যাবে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। সভার আগের দিন সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ কুকুর নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায়। বম্ব স্কোয়াড, সিভিল ডিফেন্স এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরাও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি নয়াদিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি নদিয়ার তাহেরপুরে যাবেন। তাহেরপুর থানার মাঠে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে তিনটি হেলিপ্যাড। সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ সেখানে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। হেলিপ্যাডে নামার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি গাড়িতে করে সভাস্থল নেতাজি পার্কের মাঠে যাবেন।
নেতাজি পার্কের মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বিশাল জনসভার। সভাস্থলে অস্থায়ী মঞ্চ, দর্শক বসার জন্য গ্যালারি এবং মিডিয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, কয়েক হাজার মানুষ এই সভায় উপস্থিত থাকবেন। নদিয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে বিজেপি সমর্থকদের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পার্কিং ব্যবস্থার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সভা বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসআইআর ইস্যু ও রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণের সুর কতটা তীব্র হয়, তাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।










