
নয়াদিল্লি: সোমবার আলাদা আলাদা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi)সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের সময় দুই নেতা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিজ নিজ রাজ্য ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বমূলক স্মারক উপহার দেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রধানমন্ত্রীকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের একটি প্রতিরূপ উপহার দেন। সদ্য উদ্বোধিত রাম মন্দির শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই উপহারকে উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মুস্তাফিজুর ইস্যুতে বিব্রত ভারত, বিসিসিআইকে নিশানা কংগ্রেস নেতার
অন্যদিকে, লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্ত প্রধানমন্ত্রীকে ভগবান বুদ্ধের একটি পবিত্র স্মারক উপহার দেন। বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ লাদাখ অঞ্চলের প্রতীক হিসেবেই এই উপহার তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে ১২৫ বছর পর ভারতের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য দেশে ফিরে এসেছে ইঙ্গিত ছিল ভগবান বুদ্ধের পবিত্র ধাতু স্মারকের প্রত্যাবর্তনের দিকে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, এই বিশেষ প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো পিপরাহওয়া থেকে ফেরত আসা বুদ্ধের পবিত্র ধাতু স্মারক এবং দিল্লির জাতীয় জাদুঘর ও কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একত্রে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই উদ্যোগকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতি গবেষকরা।
এদিকে, যোগী আদিত্যনাথের এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগেই তিনি উত্তরপ্রদেশ দিবস বা ‘UP Diwas’ উদযাপনকে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে, যেখানে উত্তরপ্রদেশের বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী মানুষ বসবাস করেন, সেখানে এই উদযাপন আয়োজনের কথা বলেছেন তিনি। চলতি বছর ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত পালিত হবে উত্তরপ্রদেশ দিবস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা বহন করছে। রাম মন্দিরের প্রতিরূপ এবং বুদ্ধের স্মারক দুটি উপহারই ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। সব মিলিয়ে, এই বৈঠক ও উপহার বিনিময় দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসরে এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকল।










