
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়—এই দুই নাম শুধুই সাহিত্যিক পরিচয়ের সীমায় আবদ্ধ নয়; বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক অহংকার এবং আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সেই বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা ‘বন্দেমাতরম’-কে কেন্দ্র করেই সোমবার লোকসভায় আলোচনার সময় এমন একটি মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যা মুহূর্তে উত্তপ্ত করে তোলে জাতীয় রাজনীতি। আর তার পরেই তাঁর ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে বাংলা ও তৃণমূল কংগ্রেস।
লোকসভায় ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে বিতর্কের কেন্দ্রে মোদীর মন্তব্য
সোমবার লোকসভায় ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেন। এখানেই শেষ নয়—স্বাধীনতা সংগ্রামী পুলিনবিহারী দাসকে বলেন ‘পুলিন বিকাশ দাস’, আর মাস্টারদাকে উল্লেখ করেন ‘মাস্টার সূর্য সেন’ নামে। ভাষণে এই ধারাবাহিক ভুলে তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদরা।
সৌগত রায়ের টানা প্রতিবাদের পর মোদীর কানে পৌঁছয় আপত্তি। সৌগত বলেন, “অন্তত বাবু বলুন।” সঙ্গে সঙ্গে ভাষা থামিয়ে মোদী ভুল স্বীকার করেন, “আপনার ভাবনাকে আমি সম্মান করি। বঙ্কিমদা বলা আমার ভুল, ওনাকে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলছি।” তবে ভুল সংশোধন করেও বিতর্ক থামেনি।
‘বাংলা ও বাঙালিকে অপমান’: তৃণমূলের ক্ষোভে সংসদ চত্বর উত্তাল PM Modi Bankimda Controversy
মোদীর মন্তব্যকে ‘বাংলার সংস্কৃতির অবমাননা’ বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল। সোমবারই সংসদের ভিতরে-বাইরে প্রতিবাদ শুরু করে শাসকদল। সমাজমাধ্যমেও ক্ষোভের স্রোত স্পষ্ট।
মঙ্গলবার সকালেও তৃণমূল সাংসদরা ছিলেন বিক্ষোভে। সেন্ট্রাল হলের বাইরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি হাতে মৌন প্রতিবাদে অংশ নেন দলীয় সাংসদরা।
জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে যেভাবে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকে সম্বোধন করেছেন, তারই প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রী বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাজকে অপমান করেছেন। বাংলার মানুষ তাঁকে ক্ষমা করবে না।”
রাজনৈতিক বার্তাই কি স্পষ্ট?
‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে সাংস্কৃতিক পরিসরের আলোচনা রাজনৈতিক অভিঘাতে বদলে গেল। তৃণমূলের অভিযোগ—এটি শুধু ভুল উচ্চারণ নয়, বাংলা সংস্কৃতির প্রতি অসম্মানও বটে।










