আদালতের স্বস্তির পর মোদী-শাহের পদত্যাগ দাবি খাড়গের

নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং লোকসভা সাংসদ রাহুল গান্ধী স্বস্তি পাওয়ার পরই দেশের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দিল্লির একটি বিশেষ আদালত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাখিল করা চার্জশিটে আপাতত আমল নিতে অস্বীকার করায়, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণে নামলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)।

বুধবার সকালে দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাড়গে বলেন, এই মামলার মাধ্যমে গান্ধী পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী নেতাদের দমন করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত সেই ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে বলে দাবি কংগ্রেস সভাপতির।

   

খাড়গে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ বিজেপি সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তাঁর মতে, “এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে যে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কাউকে দীর্ঘদিন হেনস্তা করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা।” তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়াও সরকারের কর্তব্য।

কংগ্রেস সভাপতির দাবি, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাটি আর্থিক দুর্নীতির নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, ইডি এবং সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বকে দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছে যে আইনের চোখে সবাই সমান।

খাড়গে বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের প্রকৃত সমস্যা যেমন বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই ধরনের মামলাকে সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, বিজেপি সরকার বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে শাসন চালাচ্ছে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় ইডি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলেও আদালত সেই নথি খতিয়ে দেখে আরও বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানায়। এই সিদ্ধান্তকে কংগ্রেস শিবির একটি নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করছে।

এদিকে বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আবহে এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে। আদালতের সিদ্ধান্ত বিরোধী শিবিরকে নতুন করে আক্রমণ শানানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন