
নয়াদিল্লি: পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) থেকে সেনা সরালেও ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত নিয়ে চীনের আগ্রাসী মনোভাব বিন্দুমাত্র কমেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা পেন্টাগনের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে চিন এখন অরুণাচল প্রদেশকে তাইওয়ানের মতোই তাদের ‘মূল স্বার্থ’ (Core Interest) হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৪৯ সালের মধ্যে ‘গ্রেট রিজুভেনেশন’ বা মহা-পুনর্জাগরণ পরিকল্পনা সফল করতে অরুণাচলকে দখল করা বেইজিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য হতে চলেছে।
পেন্টাগন রিপোর্টের চাঞ্চল্যকর তথ্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে চিন ২০৪৯ সালের মধ্যে একটি ‘বিশ্বমানের সামরিক বাহিনী’ গড়ে তুলতে চায় যারা যেকোনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে সক্ষম। অরুণাচল প্রদেশ, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলগুলোর ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করে বৈশ্বিক স্তরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করাই এখন শি জিনপিং প্রশাসনের প্রধান রণকৌশল। যদিও ভারত বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ও হেনস্তা লাদাখ সীমান্তে সাময়িক শান্তি ফিরলেও অরুণাচলকে কেন্দ্র করে চিনের নতুন চাল প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি প্রেমা থংডক নামে এক ভারতীয় নাগরিক সাংহাই বিমানবন্দরে ১৮ ঘণ্টা আটক থাকেন কারণ চিনা কর্মকর্তাদের দাবি ছিল যে তাঁর পাসপোর্টে জন্মস্থান অরুণাচল লেখা থাকায় সেটি অবৈধ। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভিডিও করায় এক ইউটিউবারকেও চিনে আটক করা হয়। বেইজিং এখন অরুণাচলকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করছে এবং নিয়মিত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আমেরিকার নজরদারি ও ভারতের অবস্থান কূটনীতিকদের মতে, অরুণাচল নিয়ে আমেরিকার এই উদ্বেগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মহেশ সচদেব জানিয়েছেন যে আগে আমেরিকা লাদাখ নিয়ে সোচ্চার থাকলেও অরুণাচল নিয়ে নীরব থাকত কিন্তু এখন পেন্টাগন এই বিষয়ে নজর দেওয়ায় চিনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে। চিন মূলত ১৯১৪ সালের ম্যাকমোহন লাইনকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ অরুণাচল, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাওয়াং অঞ্চলকে কবজা করতে চাইছে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল পেন্টাগনের রিপোর্ট আরও একটি বিপদ সম্পর্কে ভারতকে সতর্ক করেছে। চিনের এই সীমান্ত শান্তি আসলে একটি দ্বিমুখী কৌশলের অংশ যেখানে একদিকে তারা লাদাখে স্থিতাবস্থা দেখাচ্ছে আর অন্যদিকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ভারতকে ক্রমাগত সামরিক চাপে রাখার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের হাতে চিনা অস্ত্রের জোগান এই তত্ত্বকেই জোরালো করে। পেন্টাগন মনে করছে, চিন ভারতকে আমেরিকার থেকে দূরে রাখতেই সীমান্তে সাময়িক শান্তির অভিনয় করছে।










