
পাল-মশলা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির ওপর বাড়তি সেস আরোপ করতে সোমবার সংসদে পাস হল ‘হেলথ সিকিউরিটি সে ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস বিল, ২০২৫’। রাজ্যসভার অনুমোদনের পর বিলটি লোকসভার চূড়ান্ত সম্মতি পেল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, এই নতুন সেসের উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য খাতে স্থায়ী রাজস্ব প্রবাহ তৈরি করা।
পাল-মশলায় অতিরিক্ত সেস, টোব্যাকোতে এক্সাইজ শুল্ক
বিলে বলা হয়েছে, পাল-মশলা উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির মেশিন ক্ষমতার ভিত্তিতে GST-র ওপর অতিরিক্ত সেস ধার্য হবে। বর্তমানে পাল-মশলা, তামাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যে ২৮% GST এবং ক্ষতিপূরণ সেস আরোপিত হয়। ক্ষতিপূরণ সেস উঠে যাওয়ায় মোট GST হার বেড়ে দাঁড়াবে ৪০%-এ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে তামাকে এক্সাইজ শুল্ক এবং পাল-মশলায় নতুন হেলথ–ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস।
ডিমেরিট পণ্যের ওপর কর, জাতীয় নিরাপত্তায় বড় প্রয়োজন — সীতারামন
বিলের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বললেন, “এই সেস কোনও প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নয়। শুধু ডিমেরিট গুডসের ওপর কর আরোপ করে আমরা দেশের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ই শক্তিশালী করতে চাই।”
তিনি আরও জানান, আধুনিক যুদ্ধ এখন অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর—
- প্রিসিশন ওয়েপন
- স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম
- সাইবার ও স্পেস অ্যাসেট
- রিয়েল-টাইম ব্যাটলফিল্ড ইন্টেলিজেন্স
এসব রক্ষায় বিশাল মূলধন-নির্ভর বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই প্রতিরক্ষার জন্য স্থায়ী রাজস্ব প্রবাহ অপরিহার্য, যার একটি বড় অংশ আসবে নতুন সেস থেকে।
প্রতিরক্ষা খাতে অতীতে টাকার অভাব— কংগ্রেসকে নিশানা
সীতারামন অভিযোগ করেন, অতীতের সরকারগুলির সময়ে প্রতিরক্ষা তহবিল ছিল অবহেলিত। কংগ্রেস আমলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি সংসদে বলেছিলেন, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রয়োজনীয় অস্ত্র কিনতে পারছেন না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কারগিল যুদ্ধের সময় সেনাদের পর্যাপ্ত স্নো-বুট পর্যন্ত ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদও সীমিত ছিল।” মোদীর সরকারে প্রতিরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।
ট্যাক্স বাড়ানোর ক্ষমতা ‘জরুরি পরিস্থিতিতেই’, সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
সীতারামন জানান, সেস বাড়ানো বা দ্বিগুণ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে থাকে এবং সংসদের পূর্বানুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয়। “এখানে কোনও স্বেচ্ছাচারিতা নেই। অন্য কর ব্যবস্থার মতোই স্পষ্ট আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে৷”
রাজ্যগুলিকে কম টাকা দেওয়া হচ্ছে— বিরোধীদের অভিযোগ নস্যাৎ
সীতারামন জানান, NDA আমলে রাজ্যগুলিকে প্রাপ্য ট্যাক্স ডেভোলিউশনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে—
UPA আমলে: ১৮.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা
গত ১০ বছরে NDA: ৭১ লক্ষ কোটি টাকা
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের আগেও বিভিন্ন সেস বিদ্যমান ছিল— ক্রুড অয়েল সেস, ন্যাশনাল ক্যালামিটি কন্টিনজেন্ট ডিউটি, রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস ইত্যাদি।
নতুন সেস: স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা— দুই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের পদক্ষেপ
অর্থমন্ত্রীর মতে, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দেশের সামরিক প্রস্তুতি দুই-ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সেস সেই দ্বৈত লক্ষ্য পূরণ করবে। সীতারামন বলেন, “সেটি এক ধরনের কার্যকরী উপায়, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”



