পাকিস্তানের মাটিতে ফের একবার নগ্ন হয়ে উঠল (Pakistan)সন্ত্রাসবাদের ভয়ংকর মুখ। সম্প্রতি সামনে আসা একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, লস্কর-ই-তইবা (LeT)-র সঙ্গে যুক্ত একাধিক নারীকে তথাকথিত “নারী ক্ষমতায়ন” শিবিরের নামে এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার আসল উদ্দেশ্য উগ্রপন্থী মানসিকতা তৈরি, ব্রেনওয়াশ এবং পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসে যুক্ত করা।
এই তথাকথিত প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি পরিচালিত হচ্ছে লস্কর-ই-তইবার ফ্রন্ট সংগঠন মুসলিম উইমেন লিগ (MWL) এবং মুসলিম গার্লস লিগ (MGL)-এর ব্যানারে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই সংগঠনগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন কুখ্যাত জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদের পরিবারের সদস্যরা।
বাংলাদেশ না খেললে আর্থিক ক্ষতি ভারতের! নীরব কেন বিসিসিআই সভাপতি?
ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একদল নারী একটি ঘরে বসে মনোযোগ দিয়ে ভিডিও দেখছেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি কোনও সাধারণ শিক্ষামূলক কর্মশালা। কিন্তু বাস্তবতা আরও ভয়াবহ। সেই স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে ভারতীয় সেনার অপারেশন সংক্রান্ত ভিডিও, যেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে ভারত-বিরোধী ঘৃণা উসকে দিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে নারীদের মনে পরিকল্পিতভাবে ভারত-বিরোধী মানসিকতা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মানসিকভাবে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জঙ্গি কার্যকলাপে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকে হোক তা লজিস্টিক সাপোর্ট, প্রচার, অর্থ সংগ্রহ বা ভবিষ্যতে নতুন সদস্য তৈরির কাজ।
পাকিস্তানের সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক যে কেবল পুরুষ জঙ্গিদের উপর নির্ভর করছে না, এই ঘটনা তার স্পষ্ট প্রমাণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং চাপ বাড়ায়, নারীদের ‘সফট ফেস’ হিসেবে ব্যবহার করাই এখন জঙ্গি সংগঠনগুলির নতুন কৌশল।
নারী ক্ষমতায়নের মতো সংবেদনশীল ও ইতিবাচক শব্দকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসলে সমাজের গভীরে বিষ ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই নারীদের অনেকেই জানেন না যে তারা ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠছেন।এই ভিডিও সামনে আসার পর ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তান আদৌ কি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে? নাকি নীরব সমর্থন দিয়েই এই ধরনের কার্যকলাপ চলতে দিচ্ছে?
হাফিজ সইদকে একাধিকবার গৃহবন্দি বা গ্রেফতার দেখানো হলেও, বাস্তবে তার সংগঠনগুলি কীভাবে প্রকাশ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়েই সন্দেহ ঘনাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এগুলো পাকিস্তানের সেই পুরনো কৌশলেরই অংশ নাম বদল, সংগঠন বদল, কিন্তু লক্ষ্য একটাই।
এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ সন্ত্রাসবাদ এখন আর শুধু সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র হাতে অনুপ্রবেশ নয় এটি এখন আদর্শগত যুদ্ধ, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিশানা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা দরকার। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নারীদের অপব্যবহার নিয়ে আলাদা করে আলোচনা শুরু হওয়া জরুরি।
নারী ক্ষমতায়নের নামে জঙ্গি প্রশিক্ষণ এই বাস্তবতা শুধু পাকিস্তানের সন্ত্রাস ইকোসিস্টেমকেই উন্মোচিত করে না, বরং বিশ্বকে সতর্ক করে দেয়। সন্ত্রাসের রূপ বদলাচ্ছে, কৌশল বদলাচ্ছে, কিন্তু লক্ষ্য একই অশান্তি ছড়ানো। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক সমাজ এই ভয়ংকর সত্যের বিরুদ্ধে কতটা দৃঢ় অবস্থান নেয়।
