নয়াদিল্লি: ফের ধাক্কা খেল পাকিস্তান, এবার চাল রফতানিতে ভারতের (Pakistan rice exports)কাছে নাকাল পাকিস্তান। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫–২৬-এর জুলাই থেকে নভেম্বর সময়কালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট চাল রফতানি কমেছে প্রায় ৪০.০২ শতাংশ। সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে দেশটির পরিচিত বাসমতী চালের রফতানিতে যা কমেছে ৪১.৭৯ শতাংশ। বিপরীতে একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের চালের দাপট আরও শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের সরকারি সংস্থা ‘পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (PBS)’ প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট, ভারত পুনরায় বিশ্ব চাল বাজারে পূর্ণমাত্রায় ফিরে আসার পর থেকেই পাকিস্তানের রফতানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ভারতের তুলনায় পাকিস্তানি চালের দাম বেশি হওয়ায় আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে পাকিস্তান কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত কামব্যাক, নর্থ ২৪ পরগনায় আশাবাদী গৌতম ঘোষ
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের চালের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দ্রুত ভারতের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সরবরাহ বেড়েছে, দাম কমেছে এবং সেই সুযোগেই বাজার দখল করছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি চালের চাহিদা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
বিশ্ব বাজারে এই বাস্তব চিত্র মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, “ভারত বিশ্ববাজারে চাল ডাম্পিং করছে।” কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ভারতের চাল কম দামে বিক্রি হলেও তা বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার ফল। উৎপাদন ক্ষমতা, সরবরাহ চেইন এবং কৃষি নীতির জোরেই ভারত দাম কম রাখতে পারছে এমনটাই মত অর্থনীতিবিদদের।
এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক বলেন, “ভারতের চাল সস্তা হওয়ায় তা ডাম্পিং বলা ঠিক নয়। বরং ভারত বড় উৎপাদক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কম দামে বিক্রি করতে পারছে। এতে বিশ্ব বাজারে ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।” অন্যদিকে পাকিস্তানের চাল তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক আমদানিকারক দেশ বিকল্প হিসেবে ভারতকে বেছে নিচ্ছে।
বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলি, যারা দামের উপর বেশি নির্ভরশীল, তারা এখন পাকিস্তানের বদলে ভারতীয় চাল আমদানি করছে। মধ্যপ্রাচ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে পাকিস্তানি বাসমতীর আলাদা চাহিদা ছিল, সেখানে এখন ভারতীয় বাসমতী কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় বাজার ভাগ হারাচ্ছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং রপ্তানি নীতির অনিশ্চয়তা দেশটির চাল শিল্পকে দুর্বল করে তুলেছে। অন্যদিকে ভারত রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর দ্রুত বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতের এই প্রত্যাবর্তন শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বিশ্ব চাল বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে দিয়েছে। চালের দাম তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে খাদ্য নিরাপত্তা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক মহলের মতে, যদি পাকিস্তান দ্রুত উৎপাদন খরচ কমানো, রফতানি নীতিতে সংস্কার এবং নতুন বাজার খোঁজার দিকে না এগোয়, তাহলে আগামী মাসগুলোতে রফতানি আরও কমতে পারে। বিপরীতে ভারত যদি বর্তমান গতিতে বাজার ধরে রাখতে পারে, তবে বিশ্ব চাল বাজারে তার নেতৃত্ব আরও শক্ত হবে। সব মিলিয়ে, ভারতীয় চালের দাপটে পাকিস্তানের রফতানি ধসে পড়া শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ছবি নয়, বরং বিশ্ব কৃষি বাজারে শক্তির ভারসাম্য বদলেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত।
