ইউনূসের উপস্থিতিতে পাক নৌসেনার বৈঠক ঢাকায়

ঢাকা–দিল্লি–ইসলামাবাদ অক্ষের জটিল সম্পর্কের মাঝেই এক নতুন ভূরাজনৈতিক আলোচনার (Pakistan Navy visits Dhaka)কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের নৌসেনার একাধিক শীর্ষ…

pakistan-navy-dhaka-visits-india-concerns-radicalisation

ঢাকা–দিল্লি–ইসলামাবাদ অক্ষের জটিল সম্পর্কের মাঝেই এক নতুন ভূরাজনৈতিক আলোচনার (Pakistan Navy visits Dhaka)কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের নৌসেনার একাধিক শীর্ষ আধিকারিক আচমকা ধারাবাহিকভাবে ঢাকা সফর করেছেন—এই বিষয়টি ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কম সময়ে তিনজন সিনিয়র নেভি অফিসারের সফর মোটেই সাধারণ ঘটনা নয়।

Advertisements

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অনুমোদন নিয়েই এই সফরগুলি হয়েছে। আর এখানেই বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব যখনই দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশে বারবার কূটনৈতিক বা সামরিক সফর করে, তখন তার পিছনে থাকে স্পষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ইসলামাবাদ যে শুধু বন্ধুত্ব বাড়াতে চাইছে তা নয়, বরং কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তার বা গোয়েন্দা সহযোগিতার দরজা খুলে রাখার প্রয়াস এই সন্দেহ এখন জোরালো।

   

অনুপ্রবেশকারী সাফ করে দিয়ে ১৫ একর খালি করল রাজ্যসরকার

অন্যদিকে, নয়াদিল্লি এই সফরগুলিকে ‘অস্বাভাবিক তৎপরতা’ বলে মনে করছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আচমকা ঢাকাকেন্দ্রিক আগ্রহ কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। বিশেষ করে এই সময়ে, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের অভ্যন্তরে ইসলামি মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তখন পাকিস্তানের এই সফরকে অনেকেই ‘অস্বস্তিকর সংকেত’ বলেই অভিহিত করছেন।

ঢাকার কূটনৈতিক মহলে ফিসফিস, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অংশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়াতে আগ্রহী। আর পাকিস্তানও তার পুরনো কৌশলেই এগোচ্ছে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও মৌলবাদের উত্থানকে কাজে লাগিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে নিজের প্রভাব বাড়ানো।বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭১-এর বিভীষিকার স্মৃতি ভুলে নয়াদিল্লি কখনোই পাকিস্তান-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠতাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ভাবতে পারে না। ভারত জানে, ইসলামাবাদ তার কৌশলগত লক্ষ্য কখনোই বদলায় না ঢাকাকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ হিসাবে ব্যবহার করার পুরনো চিন্তাধারা এখনও সক্রিয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে গত এক বছরে যে হারে ‘র‌্যাডিক্যালাইজেশন’ বাড়ছে, সেটিও ভারতের জন্য বিপদের ঘণ্টা। বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের পুনরুত্থান, মাদ্রাসা নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক হামলা এসব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আকস্মিক সামরিক ঘনিষ্ঠতা গোটা ভূখণ্ডকেই অস্থির করে দিতে পারে।

ঢাকায় সরকারি মহল অবশ্য বলছে—এটি শুধুই ‘সাধারণ সামরিক কূটনৈতিক সফর’। কিন্তু নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যেভাবে প্রতিটি মিটিংয়ে ‘ডিফেন্স কো-অপারেশন’, ‘জয়েন্ট ট্রেনিং’ এবং ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি’-র মতো প্রসঙ্গ তুলছে, তা মোটেও স্বাভাবিক নয়। দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর যেখানে ভারতই প্রধান শক্তি, সেখানে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে।

নয়াদিল্লির অন্য উদ্বেগ—চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি আইএসআই-এর নজরে। শরণার্থী প্রবাহ, আন্তর্জাতিক মাদক রুট এবং সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে এই অঞ্চল জড়িত হওয়ায়, যে কোনও সামরিক বা পরামর্শমূলক যুক্ত হওয়া মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের পূর্ব সীমান্তে।

সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে পূর্ব সীমান্তে এক নতুন মাথাব্যথার সূত্রপাত হয়েছে—একদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ র‌্যাডিক্যালাইজেশন, অন্যদিকে পাকিস্তানের বাড়তি আগ্রহ। কোনদিকে পরিস্থিতি মোড় নেবে, তার উপর আগামী মাসগুলি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements