শক্তি-কৌশল-বার্তা! অপারেশন সিঁদুরে ভারতের দাপট দেখাল বিশ্ব

Operation Sindoor India’s Bold Airstrike Redefines Counterterrorism and National Security Doctrine
Operation Sindoor India’s Bold Airstrike Redefines Counterterrorism and National Security Doctrine

গত ৭ মে, ২০২৫-এর প্রথম প্রহরে ভারত একটি সাহসী ও অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নামে পরিচিত এই বিশাল প্রতিশোধমূলক হামলা পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-এর গভীরে সঞ্চালিত হয়েছে। এটি ছিল গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে নিরীহ নাগরিকদের উপর বর্বর হামলার প্রতিক্রিয়া, যেখানে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই অপারেশন শুধুমাত্র একটি সামরিক জবাব ছিল না, বরং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এবং শক্তি, সংকল্প ও কৌশলগত স্পষ্টতার একটি দৃঢ় বিবৃতি। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই—যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে এর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যদি আবার উসকায়, তবে ভারত শুধু হামলা করতে জানে না, কোথায় আঘাত করতে হবে তাও জানে।

এই অপারেশন অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে এবং এর ফলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। নিম্নে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কীভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভারতের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে এবং এর মাধ্যমে ভারত কী কী অর্জন করেছে।

   

১. নয়টি জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী লস্কর-ই-তৈয়বা, জৈশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের নয়টি উচ্চমূল্যের জঙ্গি ঘাঁটি নির্মূল করেছে। এই ক্যাম্পগুলি ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নির্ভুল হামলার মাধ্যমে এই ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে, যা জঙ্গিদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

২. পাকিস্তানের হৃদয়ে গভীর হামলা
অপারেশন সিঁদুর পুরনো যুদ্ধের নিয়ম ভেঙে দিয়েছে। ভারত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ সহ শত শত কিলোমিটার গভীরে হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তানের সামরিক শক্তির একটি শক্ত ঘাঁটি। বাহাওয়ালপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি কেন্দ্রগুলি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেখানে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও হামলা করতে দ্বিধা করেছিল। ভারতের বার্তা ছিল স্পষ্ট: পাকিস্তানের কোনো স্থানই জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ নয়।

৩. পাকিস্তানের জন্য নতুন লাল রেখা
অপারেশন সিঁদুর একটি নতুন লাল রেখা টেনেছে: রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদের দৃশ্যমান ও লক্ষ্যবস্তু-নির্দিষ্ট পরিণতি হবে। এটি কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং একটি প্রতিরোধ নীতির প্রয়োগ। পাকিস্তানকে এখন বুঝতে হবে যে সন্ত্রাসবাদ আর সহ্য করা হবে না।

৪. ‘ভালো জঙ্গি’, ‘খারাপ জঙ্গি’ মিথের অবসান
প্রথমবারের মতো, ভারত জঙ্গিদের এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে পার্থক্য প্রত্যাখ্যান করেছে, উভয়কেই দায়ী করেছে। এই হামলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতিগ্রস্ত উপাদানগুলিকে উন্মোচিত করেছে এবং তাদের দায়মুক্তির অবসান ঘটিয়েছে।

৫. পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষার দুর্বলতা উন্মোচিত
এসসিএএলপি মিসাইল এবং হ্যামার বোমা দিয়ে সজ্জিত ভারতের রাফাল জেটগুলি পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বাইপাস করেছে বা জ্যাম করেছে এবং মাত্র ২৩ মিনিটে তাদের মিশন সম্পন্ন করেছে, একটিও ক্ষতি ছাড়াই। এটি পাকিস্তানের চীন-নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাকে তুলে ধরেছে।

৬. ভারতের বিমান প্রতিরক্ষার পরিপক্কতা
ভারত তার শক্তিশালী, বহু-স্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে। আকাশতীরের মতো স্বদেশী ব্যবস্থা পাকিস্তানের শত শত ড্রোন এবং মিসাইল নির্মূল করে তার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। আকাশতীর এখন বিশ্বব্যাপী রপ্তানির দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

৭. নির্ভুলতার সঙ্গে অ-উত্তেজনা
ভারত তার শূন্য সহনশীলতার নীতির প্রতি সত্য থেকে কেবল জঙ্গি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেছে। সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো বেসামরিক বা সামরিক কাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। এটি ছিল নির্ভুল, দ্রুত এবং ইচ্ছাকৃত।

৮. শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের নির্মূল
এক রাতের মধ্যে বেশ কয়েকজন কুখ্যাত জঙ্গি নিহত এবং তাদের নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে। সম্পূর্ণ মডিউলগুলি ধ্বংস করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের হামলার সম্ভাবনাকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে।

৯. পাকিস্তানের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি
একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপে, ভারত নূর খান, রফিকি, মুরিদ, সিয়ালকোট, সরগোধা সহ ১১টি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রায় ২০% অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ভোলারি বিমানঘাঁটিতে স্কোয়াড্রন লিডার উসমান ইউসুফ সহ ৫০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন, এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।

১০. ত্রি-সেবার সমন্বয়
ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী নিখুঁত সমন্বয়ে কাজ করেছে, যা যৌথ যুদ্ধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এটি কেবল একটি হামলা ছিল না, বরং নির্ভুল যুদ্ধের একটি সিম্ফনি।

১১. বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ
পূর্ববর্তী সংঘাতের বিপরীতে, বিশ্ব নেতারা ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এর আত্মরক্ষার অধিকার এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সংযমের জন্য সাধারণ আহ্বান এবার উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত ছিল।

১২. কাশ্মীর নিয়ে নতুন বর্ণনা
অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদকে কাশ্মীর ইস্যু থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে। প্রথমবারের মতো, ভারত-পাকিস্তান গতিশীলতা শুধুমাত্র সন্ত্রাসবিরোধী লেন্সের মাধ্যমে দেখা গেছে, কারণ ভারত কেবল জঙ্গি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেছে।

অপারেশনের তাৎপর্য
অপারেশন সিঁদুর শুধুমাত্র একটি সামরিক বিজয় নয়, বরং ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রমাণ। এটি ভারতের সামরিক শক্তি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং কূটনৈতিক দক্ষতার সমন্বয়। ভারতের রাফাল জেট, এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আকাশতীরের মতো স্বদেশী প্রযুক্তি বিশ্ব মঞ্চে ভারতের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এই অপারেশন পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করার পাশাপাশি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এই অপারেশনের গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলি ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছে। এমনকি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলিও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সমর্থন ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তার নেতৃত্বের প্রমাণ।

পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এবং দুর্বলতা
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ছিল বিশৃঙ্খল এবং দুর্বল। তারা ভারতীয় বিমান ধ্বংসের দাবি করলেও কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারতের হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে বিভ্রান্তি স্পষ্ট ছিল। পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং তাদের চীন-নির্মিত অস্ত্রের অকার্যকারিতা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এই হামলার পর আরও প্রকট হয়েছে।

ভারতের জন্য ভবিষ্যৎ পথ
অপারেশন সিঁদুর ভারতের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তিকে প্রমাণ করেছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ভারতকে একটি নেতৃস্থানীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভারত এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার নীতি কঠোর এবং অপ্রতিরোধ্য। এই অপারেশন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে আকাশতীরের মতো স্বদেশী প্রযুক্তির রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

অপারেশন সিঁদুর শুধুমাত্র একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং ভারতের জাতীয় চেতনার প্রতিফলন। এটি ভারতের সংকল্প, সাহস এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রমাণ। পহেলগাম হামলার শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, এই অপারেশন ভারতকে বিশ্ব মঞ্চে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ভারতের বার্তা স্পষ্ট: সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই, এবং যারা এটিকে পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে। এই অপারেশন ভারতের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত এবং বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা—ন্যায় ও শান্তির পথে ভারত অটল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন