রণক্ষেত্র রাজধানী! মাঝরাতে মসজিদ চত্বরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি

old-delhi-midnight-violence-turkman

দিল্লির বুকে ফের অশান্তির ছবি। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুরনো দিল্লির (Old Delhi)তুর্কমান গেট সংলগ্ন এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফয়েজ-ই-ইলাহী মসজিদের কাছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে মাঝরাতে অভিযান শুরু করে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD)। অভিযানে সহায়তায় ছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই অভিযান ঘিরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়।

পুলিশ ও এমসিডি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতের পর প্রায় ১৭টি বুলডোজার নিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়। রামলীলা ময়দান ও তুর্কমান গেট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশ ও পূর্বঘোষিত নোটিস মেনেই এই অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে অভিযান শুরু হতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও কিছু ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

   

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে স্লোগান ও প্রতিবাদ মিছিল হলেও পরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। রাতের অন্ধকারে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া শুরু হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী সামান্য আহত হন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়, তারপর সীমিত আকারে কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কোনও লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং যতটা সম্ভব সংযতভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।

ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। তুর্কমান গেট, জওহরলাল নেহরু মার্গ, রামলীলা ময়দান সংলগ্ন একাধিক রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ভোরের দিকেই বিশেষ ট্রাফিক অ্যাডভাইসরি জারি করে। বিকল্প রাস্তায় যান চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা কম হয়। তবে অফিস টাইমে শহরের ওই অংশে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় বলে খবর।

এই ঘটনার বিষয়ে দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার মধুর ভার্মা বলেন,“ভাঙার কাজ চলাকালীন কিছু দুষ্কৃতী ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, সে জন্য পরিমিত ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। কোনও বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়নি এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

এমসিডি-র তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। প্রশাসনের দাবি, ধর্মীয় পরিচয় বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বেআইনি নির্মাণ ভাঙাই তাদের লক্ষ্য। তবে এই অভিযানের সময় বেছে নেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী মহল। গভীর রাতে অভিযান চালানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, যথাযথ আলোচনা ছাড়াই এবং সংবেদনশীল এলাকায় হঠাৎ বুলডোজার নামানো হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রশাসন চাইলে দিনের বেলায় আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা মেটাতে পারত। যদিও পুলিশ ও এমসিডি সেই অভিযোগ মানতে নারাজ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। শাসক ও বিরোধী শিবির একে অপরের দিকে দোষারোপ করছে। কেউ বলছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব, আবার কেউ বলছে সংখ্যালঘু এলাকায় বুলডোজার অভিযান নিয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার।

সব মিলিয়ে, রাজধানী দিল্লিতে মাঝরাতের এই ঘটনা আবারও অবৈধ নির্মাণ, প্রশাসনিক অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ। পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন