ভুবনেশ্বর: ফের সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল ওড়িষ্যা। ধেনকানাল জেলার পারজং থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে এক খ্রিস্টান ধর্মগুরুকে মারধর ও চরম অপমানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে একদল ব্যক্তি ওই পাদ্রিকে প্রকাশ্যে নিগ্রহ করে ড্রেনের জল ও গোবর মেশানো জল খেতে বাধ্য করে।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। আক্রান্ত পাদ্রির নাম বিপিন বিহারি নায়েক। তিনি পারজং গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ নায়েকের বাড়িতে একটি প্রার্থনাসভা পরিচালনা করছিলেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী বন্দনা নায়েক-সহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আচমকাই ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাঁশের লাঠি নিয়ে বাড়িতে চড়াও হয়। বন্দনা নায়েকের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই দলটি তাঁর স্বামীকে ঘর থেকে টেনে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়, একের পর এক চড় মারা হয় এবং লাঠি দিয়ে পেটানো হয়।
নির্যাতনের মাত্রা সেখানেই থামেনি। অভিযোগ, পাদ্রির মুখে লাল সিঁদুর মাখিয়ে দেওয়া হয় এবং গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তাঁকে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়। পরে তাঁকে একটি হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মন্দিরের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য করা হয় এবং ড্রেনের জল ও গোবর মেশানো জল খাওয়ানো হয় তাঁকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মন্দিরের ভেতরে একটি রডের সঙ্গে তাঁর হাত বেঁধে রাখা হয়। মারধরের মাঝেই তাঁকে জোর করে “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। এই গোটা ঘটনায় গুরুতর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ওই ধর্মগুরু।
বন্দনা নায়েকের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে বজরং দলের সদস্য এবং কয়েকজন স্থানীয় গ্রামবাসী ছিলেন। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে ধর্মান্তরের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর বন্দনা নায়েক পারজং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। ধেনকানালের পুলিশ সুপার অভিনব সোনকর জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পারজং গ্রামটি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে মাত্র কয়েকটি খ্রিস্টান পরিবার বসবাস করেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
