অসমের পশ্চিম কার্বি আংলংয়ে প্রাণঘাতী হিংসায় খেরনিতে দু’জনের মৃত্যু

west-karbi-anglong-violence-kherni

গুয়াহাটি , ২৩ ডিসেম্বর: পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় চলমান অশান্তি (West Karbi Anglong violence)মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরও গুরুতর আকার নেয়। খেরনি এলাকায় অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে একের পর এক অগ্নিসংযোগ, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার মধ্যেই এই প্রাণহানি ঘটায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Advertisements

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভ ঘিরে টানা উত্তেজনার আবহে খেরনি ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় সহিংস ঘটনা ঘটে। কোথাও আগুন লাগানোর অভিযোগ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে দু’জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

   

DRDO-র বড় সাফল্য! আকাশ–এনজি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সফল

পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নিজের সরকারি ‘এক্স’ হ্যান্ডলে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অশান্তির মধ্যে দু’জনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে খেরনি এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে। সরকার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। এদিকে, হিংসাকবলিত এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি হরমিত সিং।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আর অবনতি না ঘটে। একই সঙ্গে তিনি সকল পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

ডিজিপি জানান, উত্তেজনা প্রশমিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, অগ্নিসংযোগ, হিংসা বা প্রাণহানির ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খেরনি ও সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে বি এন এস এস-এর ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই নির্দেশের ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় জমায়েত ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ হলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, কড়া নজরদারি এবং ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে এলাকায় দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রুখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে কোনও রকম উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অশান্তির জেরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ, যান চলাচল সীমিত এবং আতঙ্কের আবহে বহু মানুষ ঘরের মধ্যেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements