পাকিস্তান গুপ্তচর অভিযোগে গ্র্রেফতার প্রাক্তন সেনাকর্তা

retired-iaf-officer-arrested-pakistan-spying

গুয়াহাটি: পাকিস্তানি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত (Retired IAF officer arrested)ভারতীয় বায়ুসেনা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অসমের তেজপুরে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ) কর্মী কুলেন্দ্র শর্মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গেছে। কুলেন্দ্র শর্মা ২০০২ সালে জুনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদে অবসর নিয়েছিলেন।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি এবং তথ্য শেয়ার করেছেন।ঘটনার সূত্রপাত গোয়েন্দা তথ্য থেকে। সোনিতপুর জেলার পুলিশ সুপার বরুণ পুরকায়স্থ জানিয়েছেন, দু’সপ্তাহ ধরে কুলেন্দ্রকে নজরে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেখান থেকে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে।

   

সংসদে HAL-এর তিরস্কার! হেলিকপ্টার সার্টিফিকেশনে বিলম্বের ফলে ১০৮ কোটি টাকার ক্ষতি

কিছু ডেটা ডিলিট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ হরিচরণ ভূমিজ বলেছেন, “পাকিস্তানি যোগাযোগের সন্দেহ খুবই প্রবল, কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পর আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।”কুলেন্দ্র শর্মা অবসরের আগে তেজপুর এয়ারফোর্স স্টেশনে পোস্টেড ছিলেন। সেখানে সু-৩০ এমকেআই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

তেজপুর ভারতের পূর্ব সীমান্তের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা—আর্মির আইভি কর্পসের সদর দফতর এখানে, এবং অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সীমান্তও এর অধীনে। অবসরের পর কুলেন্দ্র তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন, কিন্তু তিন বছর আগে সেই চাকরি ছেড়ে দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি সম্ভবত ফেসবুকের মাধ্যমে পাকিস্তানি মহিলা পরিচয়ধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন, যারা আসলে গুপ্তচর হ্যান্ডলার ছিল।এই গ্রেফতারি ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় সাফল্য। কুলেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ।

শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন তাঁর কোনো স্থানীয় সহযোগী ছিল কি না।এই ঘটনা একা নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহে অরুণাচল প্রদেশে চারজন কাশ্মীরি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে একই ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে। তারা টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গতিবিধি এবং ক্যাম্পের অবস্থান পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাচ্ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই উত্তর-পূর্ব ভারতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া এবং হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যে এমন কার্যকলাপ আরও উদ্বেগজনক।স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক। কুলেন্দ্রের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন অনেকে, কিন্তু দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই বলে মত সাধারণের।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য আরও কড়া নজরদারি এবং সচেতনতা প্রোগ্রাম দরকার। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আসাম পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কের গভীরতা কতটা, তা বেরিয়ে আসলে আরও গ্রেফতারি হতে পারে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন