Home Bharat North East India বড়দিনের আয়োজন ভাঙচুর করতে গিয়ে বিপাকে বজরং-হিন্দু পরিষদ নেতা

বড়দিনের আয়োজন ভাঙচুর করতে গিয়ে বিপাকে বজরং-হিন্দু পরিষদ নেতা

nalbari-christmas-vandalism-st-marys-school

গুয়াহাটি: বড়দিনের ঠিক আগের দিনে অসমের নলবাড়ি জেলায় ধর্মীয় (Christmas vandalism case)সম্প্রীতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হল। নলবাড়ি জেলার পানিগাঁও এলাকার সেন্ট মেরিজ় ইংলিশ স্কুলে বড়দিন উপলক্ষে সাজসজ্জা ভাঙচুরের অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) ও বজরং দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী। অভিযোগ, স্কুল চত্বরে ঢুকে বড়দিনের সাজসজ্জা নষ্ট করা হয় এবং কিছু সামগ্রীতে আগুনও লাগানো হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

Advertisements

স্কুলের অধ্যক্ষ ফাদার বাইজু সেবাস্তিয়ান বেলসর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, ২৪ ডিসেম্বর দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি বেআইনিভাবে স্কুল চত্বরে প্রবেশ করে। তারা বড়দিন উপলক্ষে প্রস্তুত করা বাইরের সাজসজ্জা, সিরিয়াল লাইট, টবের গাছ ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু জিনিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে স্কুলের উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

   

পৌষমেলার ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন পূর্ব রেলের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই বেলসর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ৩২৯(৩), ৩২৬(f), ১৮৯(২), ৩৫১(২), ৩২৪(৩), ৩২৪(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর চানক্য দাসকে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে।

তদন্তের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন ভাস্কর ডেকা (৩৪), বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সম্পাদক; মানস জ্যোতি পাটগিরি (৩২), ভিএইচপির সহ-সভাপতি; বিজু দত্ত (৩৪), ভিএইচপির সহ-সম্পাদক; এবং নায়ন তালুকদার (৩৭), বজরং দলের জেলা কনভেনর। সকলেই নলবাড়ি জেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বড়দিনের আগে কিছু কর্মী স্কুল চত্বরে ঢুকে “জয় শ্রী রাম”, “জয় হিন্দু রাষ্ট্র” এবং “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগান দিতে দিতে সাজসজ্জা ভাঙচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজরং দলের কয়েকজন সদস্যই প্রথম স্কুলে ঢোকে। এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনওভাবেই ধর্মীয় উৎসব বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এমন ভাঙচুর শুধু আইনভঙ্গ নয়, সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষেও ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসমের মতো বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাজ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

পুলিশের দাবি, তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, স্কুল কর্তৃপক্ষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। বড়দিনের প্রাক্কালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নলবাড়ি জেলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

Advertisements