মামা বাড়ির আধ্যাত্মিক মানচিত্রে বিশাল চমক সরকারের

গুয়াহাটি: অসমের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে মা কামাখ্যা মন্দির শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, এটি (Assam)কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস, আবেগ ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। সেই পবিত্র যাত্রাকে আরও সহজ,…

kamakhya-ropeway-project-assam

গুয়াহাটি: অসমের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে মা কামাখ্যা মন্দির শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, এটি (Assam)কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস, আবেগ ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। সেই পবিত্র যাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেই বড়সড় উদ্যোগ নিল অসম সরকার।

Advertisements

২১৩.২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হতে চলেছে কামাখ্যা রোপওয়ে প্রকল্প, যা নীলাচল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শক্তিপীঠে পৌঁছনোর অভিজ্ঞতাই বদলে দেবে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই প্রকল্পকে “পবিত্র যাত্রায় নতুন গতি” দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়, উন্নয়নের সঙ্গে ঐতিহ্যের সমন্বয় অর্থাৎ ‘বিকাশও, বিরাসতও’ এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে চলেছে কামাখ্যা রোপওয়ে।

   

বর্ডার ২-এর ক্লাইম্যাক্সে চমক! ফিরলেন অক্ষয়-সুনীল, তবে রয়েছে মস্ত ‘টুইস্ট’

প্রকল্প অনুযায়ী, প্রায় ১.৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আধুনিক রোপওয়ে সংযোগ করবে কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরাসরি মা কামাখ্যা মন্দির পর্যন্ত। বর্তমানে নীলাচল পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ভিড়, যানজট ও শারীরিক কষ্ট পেরিয়ে যেখানে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট বা তারও বেশি, সেখানে রোপওয়ে চালু হলে সেই সময় কমে আসবে মাত্র ৬ মিনিটে।

এই রোপওয়েতে থাকবে ১৮টি অত্যাধুনিক গন্ডোলা, যার মাধ্যমে প্রতিদিন ১৬,৫০০-রও বেশি যাত্রী নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রবীণ ভক্ত, শিশু ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা বিশেষ সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

কামাখ্যা রোপওয়ে শুধু সুবিধার কথা ভেবে তৈরি নয়, বরং এটি একেবারে ইকো-ফ্রেন্ডলি গ্রিন মোবিলিটি প্রকল্প। নীলাচল পাহাড়ের সরু রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ির চাপ পড়ে, যার ফলে যানজটের পাশাপাশি পরিবেশের উপরও বাড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। রোপওয়ে চালু হলে গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, ফলে দূষণ ও পাহাড়ি পরিবেশের উপর চাপ কমবে। সরকারের মতে, এই প্রকল্প প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেই উন্নয়নের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

এই রোপওয়ে প্রকল্প শুধুমাত্র তীর্থযাত্রীদের সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ ও পরিচালন পর্যায়ে সৃষ্টি হবে স্থানীয় কর্মসংস্থান, যা গুয়াহাটি ও আশপাশের এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, কামাখ্যা মন্দিরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটন আরও গতি পাবে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে নীলাচল পাহাড় ও কামাখ্যা দর্শন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২১৩.২৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগের মাধ্যমে অসম সরকার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুললেও রাজ্যের শতাব্দীপ্রাচীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য কোনওভাবেই উপেক্ষিত হবে না। বরং প্রযুক্তির সহায়তায় সেই ঐতিহ্যকে আরও সংরক্ষিত ও সবার জন্য সহজলভ্য করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কামাখ্যা রোপওয়ে প্রকল্প তাই শুধু একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি অসমের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Advertisements