আগরতলা: ত্রিপুরার সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশী গ্যাস (Bangladeshi gas truck protest)বোঝাই ট্রাক আটকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। রবিবার ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে হিন্দু সংগঠনের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বাংলাদেশী এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাক আটকে দিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু করেন। প্রতিবাদকারীরা ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’ স্লোগান তুলে বলেন, “ওরা আমাদের এক্সপোর্টের উপর বেঁচে আছে, তবু আমাদের হুমকি দেয়।
গো ব্যাক!” এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, যা ত্রিপুরার সীমান্তবাসীদের ক্ষোভের প্রতিফলন।এই প্রতিবাদের পিছনে মূল কারণ বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমাগত হামলা ও নৃশংসতা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একাধিক ঘটনায় হিন্দু যুবকদের গণহত্যা, মন্দিরে আক্রমণ এবং সংখ্যালঘু সম্পত্তি ধ্বংসের খবরে ভারতজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে ত্রিপুরা, যা বাংলাদেশের সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত শেয়ার করে, সেখানে এই ঘটনাগুলো স্থানীয়দের মনে গভীর আঘাত করেছে।
INS Vagsheer-এ রাষ্ট্রপতি মুর্মুর ঐতিহাসিক ভ্রমণ, কেন এই সাবমেরিন নৌবাহিনীর জন্য বিশেষ?
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পণ্য আমদানি করে লাভবান হচ্ছে, কিন্তু সেদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না। এমনকি কিছু রাজনৈতিক নেতার ভারত-বিরোধী মন্তব্যও ক্ষোভ বাড়িয়েছে। ফলে সীমান্তে বাংলাদেশী ট্রাকগুলোকে আটকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলা হয়েছে, যা একপ্রকার অর্থনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আগেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে, কিন্তু বকেয়া ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করছে না। এছাড়া বাণিজ্যে ভারতের সাহায্য নিয়েও সেদেশে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা চলছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো, যেমন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং অন্যান্য গোষ্ঠী, আগরতলা থেকে কৈলাসহর পর্যন্ত একাধিক প্রতিবাদ সংগঠিত করেছে। কৈলাসহরে হিন্দু ঐক্য মঞ্চের নেতৃত্বে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে গিয়ে স্লোগান তুলেছে, যদিও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।এই ঘটনা শুধু ত্রিপুরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দিল্লি, কলকাতা, হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ হয়েছে।
ভিএইচপি এবং বজরং দলের কর্মীরা ‘হিন্দু লাইভস ম্যাটার’ স্লোগান তুলে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। ত্রিপুরায় এই গ্যাস ট্রাক আটকানোর ঘটনা একটা প্রতীকী প্রতিবাদ যেখানে স্থানীয়রা বলছেন, যতক্ষণ না বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভারসাম্য রাখা উচিত নয়। কিছু প্রতিবাদকারী বাংলাদেশী পণ্য বয়কটের ডাকও দিয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনী বিএসএফ এবং ত্রিপুরা পুলিশ সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়িয়েছে। তারা ট্রাকগুলোকে নিরাপদে পার করার চেষ্টা করছে, কিন্তু প্রতিবাদের কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রতিবাদ দু’দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
