
আগরতলা: ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন তার ভিসা (Bangladesh Assistant High Commission)ও কনস্যুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তকে টিপরা মোথা পার্টির সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা তাদের প্রতিবাদের সরাসরি ফল হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, “হাই কমিশনের সামনে আমাদের প্রতিবাদ এবং আলটিমেটাম অবশেষে ফল দিয়েছে!
আগরতলায় বাংলাদেশ হাই কমিশন তার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যা অন্যদের করা উচিত ছিল, তা টিপরা মোথা এবং ওয়াইটিএফ করে দেখিয়েছে।”এই ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। বাংলাদেশের কিছু নেতার ভারত বিরোধী মন্তব্য এবং সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টিপরা মোথা পার্টির যুব শাখা যুব টিপরা ফেডারেশন (ওয়াইটিএফ) আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সামনে জোরালো প্রতিবাদ শুরু করে।
একধাক্কায় ৩ ডিগ্রি নামবে পারদ, বড়দিনে কাঁপবে কলকাতা
ওয়াইটিএফ সভাপতি সুরজ দেববর্মার নেতৃত্বে শত শত যুবক-যুবতী রাস্তায় নেমে স্লোগান দেন, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তারা দাবি করেন যে, বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে অযৌক্তিক দাবি করছেন এবং অ্যান্টি-ইন্ডিয়া মনোভাব ছড়াচ্ছেন।প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট করে বলেন, ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু এখন সেখানকার কিছু নেতা ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ওয়াইটিএফ নেতা সুরজ দেববর্মা বলেন, “আমরা ভারতের দায়িত্বশীল নাগরিক। আমাদের ভূমি এবং দেশ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে, আর এখানে তাদের দূতাবাস স্বাভাবিকভাবে চলবে এটা আমরা মেনে নেব না।” প্রদ্যোত দেববর্মা আরও যোগ করেন যে, গ্রেটার টিপরাল্যান্ডের দাবিতে লড়াই করা টিপরা মোথা পার্টি ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করবে না। তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশানা করে বলেন, যা অন্যরা করতে পারেনি, তা তারা করে দেখিয়েছে।
প্রতিবাদের পর থেকে হাই কমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। ত্রিপুরা পুলিশ এবং সিআরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন করা হয় যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু প্রতিবাদের চাপে অবশেষে সোমবার বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি এস এম আলমাস হোসেন একটি নোটিফিকেশন জারি করেন। তাতে বলা হয়, “অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ থাকবে।”
এই সিদ্ধান্ত শুধু আগরতলায় নয়, দিল্লি এবং অন্যান্য জায়গায়ও বাংলাদেশের মিশনগুলোতে অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খবর।এই স্থগিতাদেশের ফলে শত শত আবেদনকারী সমস্যায় পড়েছেন। অনেকে চিকিৎসা, ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশ যাওয়ার জন্য ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন।
ত্রিপুরা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষেরা আগরতলার এই অফিসের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রতিবাদকারীদের কাছে এটা একটা বড় জয়। প্রদ্যোত দেববর্মা বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অত্যাচার চললে এখানে তাদের অফিস চলতে দেব না।” তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকেও আহ্বান জানান যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।










