HomeBharatNorth East Indiaমামাবাড়ির জোরদার উচ্ছেদ অভিযানে ধুলোয় মিশল ১৫০০ বাড়ি

মামাবাড়ির জোরদার উচ্ছেদ অভিযানে ধুলোয় মিশল ১৫০০ বাড়ি

- Advertisement -

গুয়াহাটি, ২৯ নভেম্বর: অসমের নগাঁও জেলার লুতুমারি রিজার্ভড ফরেস্টে চলছে উচ্ছেদ অভিযান। বুলডোজারের গর্জনে কেঁপে উঠছে গোটা এলাকা। যেখানে প্রায় ১৫০০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বনভূমি দখল করে এই অঞ্চলে বসবাস চলছিল বছরের পর বছর। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযানে ধুলোয় মিশে গেছে হাজারও অবৈধ বাড়ি।

তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন, একবার উচ্ছেদ হলে এদের ভোটার আইডি এই এলাকা থেকে বাতিল হয়ে যাবে। এবং ভোটার আইডি গেলেই আধার, প্যান, আয়ুষ্মান, বিদ্যুৎ সংযোগ সব সরকারি সুবিধা বিদায়। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও মানবিক মহলে ঝড় তুলেছে।

   

ভারতের প্রথম ছবি পাঠাল NISAR স্যাটেলাইট, মহাকাশ থেকে দেখা দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার মানচিত্র

যাদের ঘর বাড়ি ভাঙা হয়েছে তারা বলছেন “আমরা তো জানতাম না এটা অবৈধ। কংগ্রেসের নেতারা বলতেন, এখানে থাকো, ভোট দিও—সব ঠিক হয়ে যাবে,”। তাঁর পরিবার পেয়েছিলেন ভোটার আইডি, আধার কার্ড, প্যান, আয়ুষ্মান ভাটা স্বাস্থ্য কার্ড, এমনকি বিদ্যুত সংযোগও। সরকারি যোজনার অধীনে চাল-তেল, বীজ-সার সবকিছু পেয়েছেন। কিন্তু আজ সব শেষ। বুলডোজার এসে সবকিছু চুরমার করে দিয়েছে।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারদের ক্ষোভ সামনে এসেছে। তারা বলছেন “এখন কোথায় যাব? ৪০ বছরের স্মৃতি কোথায় রাখব?”লুতুমারি ফরেস্ট এলাকায় এই অভিযানে ১৫০০-এর বেশি পরিবার প্রভাবিত। বেশিরভাগই বাংলা-ভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের, যাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তিন মাস আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকে বলছেন, “আমরা তো জানতাম না এটা বনভূমি। এখানে তো সবাই থাকে।” অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার চলেছে, কিন্তু কোনো সংঘর্ষ হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এটা বন সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযানকে ‘জমি জিহাদ’ বন্ধের অংশ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই অবৈধ দখল অসমের জনসংখ্যা গঠনকে বদলে দিচ্ছে। “যারা অবৈধভাবে বনভূমি দখল করেছে, তারা এখান থেকে উচ্ছেদ হলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হবে। এবং ভোটার আইডি গেলেই সব সরকারি সুবিধা—আধার, প্যান, আয়ুষ্মান, বিদ্যুৎ—সব শেষ,” বলেছেন শর্মা। এই ঘোষণা অসমের উত্তর ও উর্ধ্বাধিকার অংশে ফোকাস করা হয়েছে, যেখানে তিনি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ দখলের অভিযোগ তুলেছেন।

২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শর্মা সরকার ১,১৯,৫৪৮ বিঘা (প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার) জমি মুক্ত করেছে, যাতে প্রায় ৫০,০০০ পরিবার প্রভাবিত হয়েছে। লুতুমারির এই অভিযান তারই অংশ। শর্মা বলছেন, “আমরা নিম্ন ও মধ্য আসামে হেরে গিয়েছি, কিন্তু উত্তর অসম বাঁচাতে হবে।” জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উচ্ছেদকৃতদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলতে। এতে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে।

এই অভিযান কংগ্রেসের অতীতের উপর আঙুল তোলে। শর্মা বলছেন, কংগ্রেসের আমলে এই দখলকারীরা ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হয়ে উঠেছিল। “তারা ভোট দিত, সুবিধা পেত, কিন্তু জমি ফিরিয়ে দিত না। এখন সময় হয়েছে ন্যায়ের,” তাঁর কথা। কংগ্রেস নেতারা এতে প্রতিবাদ করছেন। “এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ৪০ বছরের বাসিন্দাদের এভাবে উচ্ছেদ করা যায় না,” বলছেন এক কংগ্রেস নেতৃত্বরা।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular