গুয়াহাটি: অসমের দরং জেলার মঙ্গলদৈতে ২১ জানুয়ারি রাতে একটি (Assam)সমন্বিত আক্রমণে ১৬টি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা সারা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মোয়ামারি, গেরিমারি এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এই মন্দিরগুলোর বেশিরভাগই কালী মন্দির। দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে মূর্তি ভেঙে ফেলে, দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পবিত্র স্থানে অপবিত্রতা ছড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় একই রাতে একাধিক জায়গায় একযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।ঘটনার পরপরই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে রাতভর জেগে থেকে মন্দির পাহারা দিয়েছেন। প্রতিমা ভাঙা দেখে অনেক ভক্তের চোখে জল এসেছে।
জানুয়ারির শেষে কমছে শীতের দাপট কমছে, ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের মা কালীর মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটা শুধু পাথর ভাঙা নয়, আমাদের বিশ্বাসের ওপর আঘাত।” মন্দির কমিটিগুলো দ্রুত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। অসম পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে, ফরেনসিক টিম নিয়ে আসে এবং সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান সংগ্রহ করে।আজ অসম পুলিশ এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযুক্তরা হলেন মাহির আলি, শামসুল আলি, মোকসেদ আলি, জাহিনুর আলি এবং নুরজামাল আলি। পুলিশ জানিয়েছে, এরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা এবং তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে তোলা হয়েছে এবং পুলিশ রিমান্ড চেয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটা একটা গুরুতর অপরাধ। আমরা আরও কাউকে জড়িত থাকলে খুঁজে বের করব।
সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা কোনো ছাড় দেব না।”এই গ্রেফতারের খবরে অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো পুলিশের প্রশংসা করেছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনাকে “অসহনীয়” বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “যারা ধর্মীয় স্থানে হামলা করে, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে কিছু সমাজকর্মী বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত। অসমে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বাস করে, কিন্তু এমন ঘটনা সেই ছবিটাকে কলঙ্কিত করে।তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর পেছনে কোনো বড় চক্রান্ত আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেউ কেউ বলছেন, এটা সাম্প্রদায়িক উসকানির অংশ হতে পারে। অন্যরা মনে করেন, এটা ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিরোধের ফল। যাই হোক, গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। মন্দিরগুলোতে এখন পাহারা বসানো হয়েছে এবং স্থানীয়রা একসঙ্গে মিলে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।
