AI চালিত ERP প্লাটফর্ম বানিয়ে ত্রিপুরার শিক্ষায় বিপ্লব বিরাজিতের

ai-enabled-erp-for-schools-northeast-india

উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রযুক্তি মানচিত্রে নতুন সংযোজন করলেন (Northeast India)ত্রিপুরার তথ্যপ্রযুক্তি পেশাদার বিরাজিত দেববর্মা। তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সম্প্রতি স্কুলগুলির জন্য একটি অত্যাধুনিক AI-সক্ষম ERP (Enterprise Resource Planning) প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন, যা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে আরও স্মার্ট, সংগঠিত ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে তৈরি হওয়া এই প্রযুক্তিকে ইতিমধ্যেই শিক্ষা প্রযুক্তি মহলে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই AI-চালিত ERP প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হল স্কুলগুলির প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিক করা এবং একইসঙ্গে গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বহু স্কুল এখনও হাতে-কলমে রেকর্ড রাখা, বিচ্ছিন্ন ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং সময়সাপেক্ষ প্রশাসনিক পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। বিরাজিত দেববর্মার উদ্যোগ সেই পুরনো ধাঁচের ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কাঠামোয় রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

   

অপেক্ষার অবসান! ২০টি নতুন তেজস Mk1A পাবে ভারতীয় বিমান বাহিনী

এই নতুন প্রজন্মের স্কুল ম্যানেজমেন্ট সলিউশনটিতে রয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্কেলেবল আর্কিটেকচার এবং ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কফ্লো। ফলে কোনও স্কুল তাদের প্রয়োজন, পরিকাঠামো ও ডিজিটাল প্রস্তুতির স্তর অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। একবারে পুরো সিস্টেম বদলে ফেলার চাপ না রেখে, প্রয়োজনমতো ফিচার বেছে নেওয়ার সুযোগই এই ERP-র অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।

সাধারণ ERP সিস্টেম যেখানে ‘ওয়ান-সাইজ-ফিটস-অল’ মডেলে কাজ করে, সেখানে এই AI-সক্ষম প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ আলাদা। স্কুল চাইলে শুধু উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা, ছাত্রছাত্রীদের তথ্য সংগঠন, একাডেমিক ডেটা বিশ্লেষণ বা প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো নির্দিষ্ট অংশ দিয়েই শুরু করতে পারবে। AI-ভিত্তিক ইনসাইটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে।

প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি বিরাজিত দেববর্মা ঘোষণা করেছেন, তিনি গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে AI সচেতনতা কর্মসূচি চালু করতে চলেছেন। এই কর্মসূচিগুলিতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং স্কুল প্রশাসকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, ডিজিটাল লিটারেসি এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, শুধু প্রযুক্তি তৈরি করলেই চলবে না মানুষকে সেই প্রযুক্তি বুঝে ব্যবহার করতে শেখানোই আসল চ্যালেঞ্জ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান ডিজিটাল বিভাজন (Digital Divide) কমানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব অঞ্চলে এখনও AI-ভিত্তিক শিক্ষার ধারণা সীমিত, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উদ্ভাবন ও শিক্ষা এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

AI-সক্ষম ERP প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার বা সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলিকে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে উঠে আসা এই প্রযুক্তি উদ্যোগ যে আগামী দিনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, সে বিষয়ে আশাবাদী বিশেষজ্ঞ মহল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন