শুভেন্দুর আবেদনে সাড়া দিয়ে চা-কর্মীদের জন্য বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

north-bengal-tea-garden-workers

কলকাতা: উত্তরবঙ্গের চা বাগান ও সিনকোনা বাগানের হাজার হাজার (Tea garden)শ্রমিকের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)-এর ক্ষেত্রে এবার চা বাগান এবং সিনকোনা বাগানের কর্মসংস্থানের রেকর্ডকে পরিচয় ও বাসস্থানের বৈধ প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত শ্রমিক, জনজাতি ও বনবাসী মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দিয়ে উত্তরবঙ্গের বাগান শ্রমিকদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়েই নির্বাচন কমিশন এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

   

লাক্ষাদ্বীপে ৫ দিনের স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজনে নৌবাহিনী

শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের অনুরোধ মেনে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য চা বাগান ও সিনকোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথিকে বৈধ দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে—এতে তিনি অত্যন্ত খুশি। তাঁর মতে, এটি উত্তরবঙ্গের উপেক্ষিত কণ্ঠস্বরের এক দুর্ধর্ষ জয়।

উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান ও বনাঞ্চল এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বৈধ পরিচয়পত্র ও বাসস্থানের প্রমাণ না থাকার কারণে ভোটার তালিকায় নাম তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অবহেলার কারণেই এই শ্রমিক ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষরা বছরের পর বছর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সেই জট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মসংস্থানের রেকর্ড থাকলেই এবার বাগান শ্রমিকরা নিজেদের পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে তা ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা সহজ হবে এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পথ খুলে যাবে।

এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গের সমস্ত যোগ্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সবাই এগিয়ে আসুন এবং নিজেদের কর্মসংস্থানের রেকর্ড ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলুন। তাঁর কথায়, “আপনার ভোটই আপনার আসল শক্তি। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করি।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোটার সংখ্যা কম থাকার যে অভিযোগ ছিল, তা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে জনজাতি ও বনবাসী মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর পথে এক বড় অগ্রগতি। এবার দেখার, কতটা সাফল্যের সঙ্গে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন চা বাগান ও সিনকোনা বাগানের শ্রমিকরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন