নয়ডায় আক্রান্ত মালদার মেয়ে, নাবালিকা পরিচারিকাকে পেটাল সস্ত্রীক-CRPF জওয়ান!

গ্রেটার নয়ডা এলাকা থেকে সামনে এল এক হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা মাত্র ১০ বছরের এক নাবালিকা পরিচারিকার উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা…

noida-minor-maid-torture-crpf-jawan-wife-arrested AI Picture

গ্রেটার নয়ডা এলাকা থেকে সামনে এল এক হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা মাত্র ১০ বছরের এক নাবালিকা পরিচারিকার উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক CRPF জওয়ান ও তাঁর স্ত্রীকে। ঘটনার ভয়াবহতায় গোটা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisements

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নাবালিকাকে বাড়ির কাজের জন্য মালদা থেকে গ্রেটার নয়ডায় নিয়ে আসা হয়েছিল। অভিযোগ, কাজের সামান্য ভুল বা কথার জবাব দেওয়াকেই কেন্দ্র করে শিশুটির উপর চলত অকথ্য অত্যাচার। তাকে নিয়মিত মারধর করা হত, দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে অনাহারে রাখা হত। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে একসময় শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করে।

   

হাসপাতালের চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই নাবালিকার একাধিক পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে, শরীরজুড়ে রয়েছে গভীর ক্ষতচিহ্ন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হল, তার হিমোগ্লোবিন মাত্র ১.৯-এ নেমে গিয়েছিল, যা কার্যত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় তাকে। বর্তমানে শিশুটি লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও সংকটজনক এবং আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি সামনে আসে প্রতিবেশীদের তৎপরতায়। দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি থেকে শিশুটির কান্না ও চিৎকার শোনা যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। অবশেষে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপরই শুরু হয় তদন্ত, গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত CRPF জওয়ান ও তাঁর স্ত্রীকে। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পুলিশি প্রেস কনফারেন্স, হাসপাতালের আপডেট এবং অভিযুক্তদের ঝাপসা ছবি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।

এই ঘটনা আবারও দেশের শিশু শ্রম ও গৃহস্থালি কাজে নিযুক্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ২৯ লক্ষ শিশু শ্রমিক রয়েছে। আইনত শিশু শ্রম নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে ঘরের আড়ালে বহু শিশু গৃহপরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য হয়, যেখানে নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহস্থালি কাজে নিযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নজরদারির অভাবই সবচেয়ে বড় সমস্যা। চার দেওয়ালের মধ্যে কী ঘটছে, তা প্রশাসনের পক্ষে জানা কঠিন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতন দীর্ঘদিন চলতে থাকে, যতক্ষণ না কোনও গুরুতর ঘটনা ঘটে বা বাইরের কেউ বিষয়টি লক্ষ্য করে।

এদিকে, CRPF কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত জওয়ানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, বাহিনীর কোনও সদস্যের এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া হবে না।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় মালদার ওই নাবালিকার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে গোটা দেশ। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরে শিশু শ্রম ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। আইন আছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোই যে এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল গ্রেটার নয়ডার এই লজ্জাজনক ঘটনা।

Advertisements