ভারতের বিমানবন্দর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (AERA) শুক্রবার জানিয়েছে যে, দেশীয় বিমানযাত্রীদের জন্য ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি (user development fee) অপরিবর্তিত থাকবে। তবে, দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (ডায়াল), যারা দিল্লি বিমানবন্দর পরিচালনা করে, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিমানবন্দরের প্রচলিত চার্জে ৭৩০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। এএনআই-এর হাতে আসা একটি ট্যারিফ অর্ডারের নথি অনুসারে, এএরএ ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য চতুর্থ নিয়ন্ত্রণ সময়কালের (১ এপ্রিল, ২০২৪ থেকে ৩১ মার্চ, ২০২৯) বিমান চলাচল সেবার ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ইউডিএফ যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে। এখন থেকে ইকোনমি এবং বিজনেস ক্লাস ভ্রমণকারীদের জন্য আলাদা হার প্রযোজ্য হবে। এই সমন্বয় “ইউজার পে” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটায়। এছাড়া, এয়ারলাইন্সের জন্য ল্যান্ডিং এবং পার্কিং চার্জও যৌক্তিক করা হয়েছে এবং তা যুক্তিসঙ্গত স্তরে রাখা হয়েছে। একই ধরনের বিমানবন্দরের চার্জের সঙ্গে তুলনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে এয়ারলাইন্সের উপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে এবং পরিচালন দক্ষতা বজায় থাকে।
ডায়াল বিমানবন্দরের প্রচলিত চার্জে ৭৩০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও, এএরএ প্রতিটি নিয়ন্ত্রণমূলক উপাদানের গভীর বিশ্লেষণ এবং যথাযথ পরীক্ষার পর এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১৪০ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। এই সমন্বয় বিমানবন্দর পরিচালককে প্রয়োজনীয় মূলধন ব্যয় মেটাতে, পরিচালন দক্ষতা বজায় রাখতে এবং স্টেট সাপোর্ট এগ্রিমেন্ট (এসএসএ) এবং অপারেশন, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট (ওএমডিএ)-তে উল্লিখিত মান অনুযায়ী সেবার গুণমান নিশ্চিত করতে সক্ষম করবে।
আরো দেখুন পিএফ তোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে ৮ বড় পদক্ষেপ নিল EPFO
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট বিমানযাত্রার ৮০ শতাংশ দেশীয় যাত্রী। তাদের জন্য প্রচলিত ইউডিএফ, যা বর্তমানে ১২৯ টাকা, অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে এএরএ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা, সাশ্রয়ীতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশীয় বিমান চলাচল খাতের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ট্যারিফ সমন্বয় এবং অন্যান্য বিমান চলাচল চার্জের সঙ্গে এই পদক্ষেপ দিল্লি বিমানবন্দরে অবকাঠামো উন্নয়নকে সমর্থন করবে এবং পরিচালকের আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
AERA বিমান চলাচল খাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সুষম নিয়ন্ত্রণ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রচার এবং ভারতের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে। দিল্লি বিমানবন্দর ভারতের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। তাই এই ট্যারিফ নির্ধারণে যাত্রীদের সুবিধা এবং পরিচালকের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।
ইউডিএফ (user development fee)অপরিবর্তিত রাখার কারণ
দেশীয় যাত্রীদের জন্য ইউডিএফ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সাধারণ মানুষের জন্য বিমান ভ্রমণকে সাশ্রয়ী রাখবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ইকোনমি এবং বিজনেস ক্লাসের মধ্যে পার্থক্য করা যৌক্তিক। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা সাধারণত বেশি সুবিধা উপভোগ করেন, তাই তাদের জন্য চার্জ বৃদ্ধি করা যুক্তিসঙ্গত। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিমানবন্দরে উন্নত সুবিধা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ডায়ালের ৭৩০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি ছিল অত্যধিক।
AERA -র বিশ্লেষণ
এটি এয়ারলাইন্স এবং যাত্রীদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারত। AERA -র বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, এত বড় বৃদ্ধি ছাড়াই বিমানবন্দরের মূলধন ব্যয় এবং পরিচালন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি যদিও উল্লেখযোগ্য, তবু এটি বিমানবন্দরের আর্থিক স্বাস্থ্য এবং সেবার মান ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছে।
ল্যান্ডিং এবং পার্কিং চার্জ যৌক্তিক রাখার ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। এটি বিমান পরিষেবার প্রতিযোগিতামূলক মূল্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অন্যান্য একই ধরনের বিমানবন্দরের চার্জের সঙ্গে তুলনা করে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে, দিল্লি বিমানবন্দরে এয়ারলাইন্স পরিচালনার দক্ষতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
এই ট্যারিফ নির্ধারণে এএরএ যে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা দেখিয়েছে, তা বিমান চলাচল খাতে একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করবে। এটি যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিমানবন্দরের উন্নয়ন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। দিল্লি বিমানবন্দরে অবকাঠামো উন্নত করা এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিমান চলাচল খাতে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এএরএ-র এই সিদ্ধান্ত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখবে। এটি ভবিষ্যতে অন্য বিমানবন্দরগুলোর জন্যও একটি নজির হয়ে থাকতে পারে।