
দিল্লি: গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার আইপ্যাক (I-PAC) সদর দপ্তর এবং সংস্থাটির অধিকর্তা প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডি-র তল্লাশিতে ‘অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ’ ও নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে চরম সংঘাত দেখল দেশ। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) দায়ের করা পিটিশনের শুনানিতে আজ শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছে যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ‘গুরুতর’। ইডির হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে জানান, সেখানে গণতন্ত্র নয়, বরং ‘মবতন্ত্র’ বা ভিড়ের শাসন চলছে।
“মুখ্যমন্ত্রী নথি ও ফোন চুরি করেছেন”: বিস্ফোরক তুষার মেহতা
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল অভিযোগ করেন, পিএমএলএ (PMLA)-র ১৭ নম্বর ধারা মেনে যখন কেন্দ্রীয় সংস্থা তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জোর করে তল্লাশি প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নথিপত্র ভর্তি ফাইল এবং একজন ইডি আধিকারিকের মোবাইল ফোন পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তুষার মেহতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন তা স্পষ্টত চুরি। পুলিশকে সাক্ষী রেখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়া এবং প্রমাণ লোপাট করা হলে বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এর মাধ্যমে একটি অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করা হচ্ছে।”
ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন ও পুলিশের ভূমিকা No Democracy In Bengal ED in SC
এ দিন ইডির তরফে সুপ্রিম কোর্টে একটি অতিরিক্ত আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, ডিজি নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তল্লাশিতে বাধা দিতে সহায়তা করেছেন। এমনকি, পুলিশের উর্দিতে থাকা বেশ কিছু আধিকারিক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ধরনায় বসেছিলেন, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা পাচার কাণ্ডের হাওলা যোগসূত্র খুঁজতে ওই তল্লাশি চালিয়েছিল।
‘গণতন্ত্র নয়, মবতন্ত্র’
হাইকোর্টের শুনানিতে বিশৃঙ্খলা এবং এজলাসের বাইরে ধামসা-মাদল বাজানো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তুষার মেহতা বলেন, “ক্যালকাটা হাইকোর্টকে যন্তর-মন্তরে পরিণত করা হয়েছে। বাংলায় গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই।” ইডি-র তরফে দাবি করা হয়েছে যে, আইপ্যাকের তরফে এই তল্লাশি নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী নিজে অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ হার্ড ড্রাইভ জোরপূর্বক হস্তগত করেছেন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন, তখন তাঁর হাতে তদন্তের স্পর্শকাতর প্রমাণ ছিল বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।










