মোদী-শাহর সঙ্গে বৈঠকে বিহারের উন্নয়ন ও রাজ্যসভা ভোটে নজর নীতিশের

নয়াদিল্লি:বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার (Nitish Kumar) সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। পৃথক এই দুই বৈঠকে বিহারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে৷

টানা দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর নীতিশ কুমারের এটি ছিল প্রথম দিল্লি সফর। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা রাজীব রঞ্জন ওরফে লালন সিং। তিনজন একই গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছন।

   

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকটি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে। পরে প্রায় ২০ মিনিট ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করেন নীতিশ কুমার। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় তিনি পাটনায় ফিরে যান।

যদিও সরকারি ভাবে এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হয়েছে, তবে জেডিইউ নেতৃত্বের একাংশের মতে, আলোচনার পরিসর ছিল অনেক বিস্তৃত। বিহারের উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রের আর্থিক সহযোগিতা এই বিষয়গুলিই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

এক জেডিইউ নেতা জানান, বিধানসভা নির্বাচনে মানুষের বিপুল সমর্থন সরকারের উপর বড় দায়িত্ব চাপিয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। বিশেষ করে বিহারের মতো সম্পদ-স্বল্প রাজ্যের জন্য কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই বিহার সরকার ‘সাত সংকল্প’ কর্মসূচির তৃতীয় সংস্করণ চালু করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য একটি স্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে রূপ দিতে গেলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা কেন্দ্রের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

এছাড়াও বৈঠকে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আগামী এপ্রিল মাসে বিহারে রাজ্যসভার পাঁচটি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী এই পাঁচটি আসনই এনডিএ-র দখলে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিধান পরিষদের নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাক্তন মন্ত্রী নীতিন নবীনকে বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সঞ্জয় সরাওগিকে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে আনা হয়েছে। নীতিন নবীন মঙ্গলবার প্রথমবার জাতীয় পদে থাকার পর বিহার সফরে আসছেন, যা রাজ্যের রাজনীতিতে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জেডিইউ নেতৃত্বের মতে, প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী উভয়েই বিহারের জনগণের দেওয়া ঐতিহাসিক ম্যান্ডেটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। বেকারত্ব ও পরিযানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে শিল্পায়নই একমাত্র পথ, আর সেই লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রের বড় ভূমিকা প্রয়োজন।

এক জেডিইউ নেতা বলেন, “এটি কেবল শুরু। বিহারের উন্নয়নের স্বার্থে আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও একাধিক বৈঠক হবে।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন