নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন প্রতি বছর ভারতবর্ষে বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই দিনটিকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রদূত, বীর সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন নিঃসন্দেহে ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ২৩ জানুয়ারি, ১৮৯৭ সালে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর একটি পরিবারে জন্মগ্রহণকারী নেতাজি ছোট বয়স থেকেই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, দৃঢ়সঙ্কল্প এবং দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন।
শুক্রবার, জন্মজয়ন্তীর বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, “তিনি ছিলেন নির্ভীক, অবিচল দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর আদর্শ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একটি শক্তিশালী ভারত গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা জোগায়।” মোদীর এই বক্তব্য নেতাজির সাহসিকতা, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বের মূল্যকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, কৌশলী নেতা এবং স্বাধীনতার সংগ্রামী। তিনি ভারতকে ব্রিটিশ শাসনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য সব ধরনের সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯২৮ সালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি যুব সমাজকে সংগঠিত করেন। তাঁর এই উদ্যোগ এবং দুঃসাহসিক পদক্ষেপই পরবর্তীতে স্বাধীনতার পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন যে নেতাজির জীবন আমাদের শেখায় যে দেশপ্রেম কেবল অনুভূতি নয়, বরং এটি কর্মে রূপান্তরিত হতে হবে। নেতাজির আদর্শ আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা অর্জন সহজ কাজ ছিল না, বরং এটি অসংখ্য ত্যাগ, সংগ্রাম এবং সাহসিকতার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল। তাঁর জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস। আজকের যুবসমাজ যদি নেতাজির মতো সাহসী এবং আত্মনির্ভর হয়, তবে দেশের স্বপ্ন সত্যিই পূরণ হবে।
নেতাজির অবদান শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক সংগ্রামে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি শিক্ষার প্রতি গভীর বিশ্বাসী ছিলেন এবং যুব সমাজকে দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য উৎসাহিত করতেন। স্বাধীনতার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তিনি যে নীতি, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধের শিক্ষা রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য এই সত্যকেই পুনরায় সামনে এনেছে যে নেতাজির জীবন আমাদের শিখায়, কিভাবে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের দিনে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ‘পরাক্রম দিবস’ পালন করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংস্থা এবং সরকারী অফিসগুলো নেতাজির জীবন, আদর্শ এবং ত্যাগকে স্মরণ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানগুলোতে বীর নেতাজির সাহসিকতা, ন্যায়বিচার ও দেশপ্রেমের বার্তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে সাহসী নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম কেবল বড় কথা নয়, বরং এটি প্রজন্মের চেতনা ও মানসিকতাকে পরিবর্তন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ নয়; এটি দেশের যুবসমাজকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, নেতাজির আদর্শ অনুসরণ করাই শক্তিশালী, সৃজনশীল এবং উদ্যমী ভারতের ভিত্তি।
আজ, যখন আমরা নেতাজির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, তখন শুধুমাত্র তাঁর অতীত কীর্তির কথা স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়। বরং তাঁর জীবন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও আদর্শকে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজে লাগানোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘পরাক্রম দিবস’ শুধু অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এক প্রতীক।
