ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় গান্ধী পরিবারের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ছে। দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW) এই মামলায় নতুন FIR দায়ের করেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ও সংবাদমাধ্যমে সরব আলোচনার জন্ম দিয়েছে। FIR-এর তারিখ ৩ অক্টোবর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কংগ্রেস নেতারা রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং স্যাম পিত্রোদা নাম রয়েছে। FIR-এ অভিযোগ আনা হয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (AJL) ফ্রডুলেন্টভাবে দখল এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের।
FIR-এ কংগ্রেস নেতাদের পাশাপাশি Young Indian এবং Dotex নামের কোম্পানিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। Dotex হলো কলকাতা ভিত্তিক একটি শেল কোম্পানি, যা অভিযোগ অনুসারে অর্থ স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। FIR-এ দাবি করা হয়েছে যে, AJL-এর সম্পদ দখল ও অর্থের গতি-প্রকৃতিকে লুকানোর উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এই FIR-এ উল্লেখিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা। এই মামলার প্রেক্ষাপটে EOW-এর তদন্ত আরও গভীর হচ্ছে, এবং বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এনডিএ শিবিরের নেতা আর পি সিং FIR-কে ‘সাধারণ প্রক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “যদি ইডি (ED) কোনো মামলা দায়ের করে, তাহলে ইকোনমিক অফেন্সের পক্ষ থেকে সেই অনুসরণ করা স্বাভাবিক।” অন্যদিকে, বিজেপির নেতা এই মামলাকে ‘খোলাখুলি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, “এই মামলা দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সমাধান হয়ে গেছে, এখন কেবল ফলোআপ হচ্ছে।”
FIR-এ নাম জড়ানো রাজনীতিবিদরা ইতিমধ্যেই এই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কংগ্রেস শিবির FIR-কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে। দলের নেতারা মনে করছেন, এই FIR রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে এবং নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও BJP এবং EOW অভিযোগের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করছে, তবে FIR-এর মাধ্যমে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। Young Indian ও Dotex-এর সম্পৃক্ততা বিষয়টি আরও জটিল করেছে, কারণ অভিযোগ অনুসারে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বৃহৎ আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে।
