মোদি-শিনাওয়াত্রার বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা

Modi-Shinawatra meeting announces strategic partnership ভারত ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে নতুন শক্তি ও গতি যোগ করতে আজ, বৃহস্পতিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (narendra modi) থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী…

narendra modi and shinawatra

Modi-Shinawatra meeting announces strategic partnership

   

ভারত ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে নতুন শক্তি ও গতি যোগ করতে আজ, বৃহস্পতিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (narendra modi) থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর স্তরে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সফরে ভারত ও থাইল্যান্ড বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

Advertisements

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও MoU স্বাক্ষর

মোদি ও শিনাওয়াত্রার বৈঠকের পর ভারত-থাইল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বেশ কয়েকটি MoU-এর আদান-প্রদান হয়। থাইল্যান্ডের ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজ মন্ত্রণালয় এবং ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি MoU স্বাক্ষরিত হয়।

ভারতের জাহাজ, বন্দর ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের সাগরমালা বিভাগ এবং থাইল্যান্ডের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ফাইন আর্টস বিভাগ গুজরাটের লোথালে জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্স (NMHC) উন্নয়নের জন্য একটি MoU-এ স্বাক্ষর করে।

এছাড়া, জাতীয় ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশন লিমিটেড (NSIC) এবং থাইল্যান্ডের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ প্রচার অফিস (OSMEP) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (MDONER) এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও একটি MoU স্বাক্ষরিত হয়। উত্তর-পূর্ব হস্তশিল্প ও হস্ততাঁত উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড (NEHHDC) এবং থাইল্যান্ডের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এজেন্সি (CEA) একটি সহযোগিতার চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

মোদির আগমন ও উষ্ণ স্বাগত (narendra modi)

প্রধানমন্ত্রী মোদি (narendra modi) আজ সকালে থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর ব্যাংককে একটি আনুষ্ঠানিক গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। ব্যাংককের ভারতীয় সম্প্রদায় তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়, প্রার্থনার মাধ্যমে স্বাগত জানায়, যা দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতিফলন। মোদি এক্স-এ লিখেছেন, “ব্যাংককের ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ স্বাগতের জন্য কৃতজ্ঞ। ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন আমাদের জনগণের মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এখানে এই সংযোগ এত শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হতে দেখে আনন্দিত।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স-এ লিখেছেন, “আমাদের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বে নতুন শক্তি ও গতি যোগ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী শিনাওয়াত্রার সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত আলোচনা করেন এবং সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে সম্মত হন।”
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন দিশা

মোদি (narendra modi) তাঁর প্রস্থান বিবৃতিতে বলেছিলেন, “আমি বিমসটেক দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আমাদের জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে উৎপাদনশীলভাবে জড়িত হওয়ার জন্য উন্মুখ। আমার সরকারি সফরে, আমি প্রধানমন্ত্রী শিনাওয়াত্রা এবং থাই নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের প্রাচীন ঐতিহাসিক সম্পর্ককে উন্নত করার সুযোগ পাব, যা সাংস্কৃতিক, দার্শনিক এবং আধ্যাত্মিক চিন্তার শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।” এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংযোগ, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা বৌদ্ধধর্ম, ভাষা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। এই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, যা বর্তমানে ১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। থাইল্যান্ড ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

শত্রুদের ঘুম নষ্ট করতে প্রস্তুত ইউক্রেন! 20 কিলোমিটার রেঞ্জ সহ FPV ড্রোনের সফল পরীক্ষা

বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ

মোদি এই সফরে ষষ্ঠ বিমসটেক (বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলির জন্য বহুক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা) সম্মেলনে অংশ নেবেন, যা ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে ভারত, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমার এবং ভুটানের নেতারা অংশ নেবেন। সম্মেলনের থিম ‘বিমসটেক – সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত’। এই সম্মেলনে সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং ‘ব্যাংকক ভিশন ২০৩০’ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রীলঙ্কা সফর

থাইল্যান্ড থেকে মোদি ৪-৬ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় দুই দিনের সফরে যাবেন। এটি শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিসানায়েকের আমন্ত্রণে একটি রাষ্ট্রীয় সফর হবে। এই সফরে মোদি শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করবেন এবং ভারতীয় সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করবেন।

মোদির এই সফর ভারত-থাইল্যান্ড সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং MoU-গুলি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিমসটেক সম্মেলন এবং শ্রীলঙ্কা সফরের মাধ্যমে ভারত তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে আরও জোরদার করছে। এই সফরের ফলাফল আগামী দিনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।