
মহারাষ্ট্রের নাগপুর পুরনিগম নির্বাচনের প্রাক্কালে এক (Nagpur)প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চার সন্তানের মা পুষ্পা ওয়াঘমারে নাগপুর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তিনি আদৌ ভোটে লড়তে পারবেন কি না। কারণ, মহারাষ্ট্রে ১৯৯৫ সাল থেকেই একটি আইন কার্যকর রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে, দু’টির বেশি সন্তানের বাবা বা মা কোনওভাবেই পুরসভা বা নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
১৯৯৫ সালে কার্যকর হওয়া মহারাষ্ট্র মিউনিসিপাল কর্পোরেশনস অ্যান্ড মিউনিসিপাল কাউন্সিলস, নাগর পঞ্চায়েতস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপস (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট অনুযায়ী এই বিধি চালু হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইন আনা হয়েছিল। কিন্তু তিন দশক পরেও সেই আইন কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, কীভাবে চার সন্তানের মা হিসেবে পুষ্পা ওয়াঘমারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ।
প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির আকাশপথ বন্ধ, বিমানযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরনিগমে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে রয়েছে মুম্বই, পুনে, পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মতো বড় শহর। ভোট গণনা হবে ১৬ জানুয়ারি। নাগপুর এই নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির নিজের শহর। ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার নাগপুর পুরসভা বিজেপির দখলেই ছিল।
এই আবহে দক্ষিণ-পশ্চিম নাগপুরের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) টিকিটে লড়ছেন পুষ্পা ওয়াঘমারে। মনোনয়নপত্র জমা পড়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে এবং বিতর্ক শুরু হয়। তবে পুষ্পা ওয়াঘমারের দাবি, তিনি প্রথমবার ভোটে দাঁড়াচ্ছেন এবং আইন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। প্রথমবার ভোটে দাঁড়াচ্ছি, তাই এই নিয়ম জানার কোনও কারণই ছিল না। আগে জানলে কখনও মনোনয়ন জমা দিতাম না।” তাঁর আরও বক্তব্য, “আমার মনোনয়নপত্র নির্বাচন দপ্তর গ্রহণ করেছে। সেটা যদি ভুল হয়, তার দায় আমার নয়। আমি অন্যায়ভাবে ভোগান্তির শিকার হতে চাই না। তাই যাই হোক, লড়াই চালিয়ে যাব।”
ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হলে কী করবেন এই প্রশ্নে পুষ্পা স্পষ্টভাবে দায় ঠেলেছেন প্রশাসনের উপর। তিনি বলেন, “যে আধিকারিক আমার ফর্ম গ্রহণ করেছেন, তাঁকেই এই প্রশ্ন করা উচিত। যদি অফিসার গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে আমাকে অকারণে সমস্যায় পড়তে হবে কেন?”
পেশায় ক্ষুদ্র ক্যাটারিং ব্যবসায়ী পুষ্পা ওয়াঘমারে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাঁর ওয়ার্ড এলাকায় নিকাশি সমস্যা প্রকট। বর্ষাকালে প্রায়শই জল জমে যায়, বাড়িঘর ডুবে যায়।
তাঁর অভিযোগ, আগের জনপ্রতিনিধিরা এই সমস্যাগুলি উপেক্ষা করেছেন। সেই কারণেই তিনি ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পায়ে হেঁটে প্রচারে বেরিয়ে তিনি বলেন, “আমার এলাকার মানুষ আমাকে চায়। যাঁদের আগে নির্বাচিত করা হয়েছিল, তাঁরা আর ফিরে তাকাননি।”
এদিকে নাগপুর পুরসভা নির্বাচনের ইলেকশন অফিসার ডা. অভিজিৎ চৌধুরি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারকে একটি বিস্তারিত তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক দিক থেকে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এর বিরুদ্ধে কোনও আপত্তি থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। আমরা আমাদের স্তর থেকে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারি না।”
নাগপুর পুরসভায় মোট ১৫১টি আসনের জন্য ৩৮টি প্রভাবগে ভোট হবে। প্রাথমিকভাবে ৮০টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ৯৯৩ জন প্রার্থী এখন মাঠে রয়েছেন। এত বড় নির্বাচনে এই ধরনের ভুল কি প্রশাসনিক গাফিলতি এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. চৌধুরি জানান, মনোনয়নের শেষ দিনে বিপুল ভিড় এবং তার পরপরই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, চার সন্তানের মা হয়েও ভোটে লড়াই এই ঘটনা শুধু একটি প্রার্থীর ভাগ্য নয়, বরং প্রশাসনিক সতর্কতা, আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন শেষ কথা বলবে আদালত এবং ভোটের ফল।




