বিহারের মুজফ্ফরপুরে একটি স্কুলকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল(Muzaffarpur school student misconduct)ছাত্রছাত্রীদের আচরণ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে। একই স্কুল ভবনে উর্দু-মাধ্যম ও হিন্দি-মাধ্যমের পড়ুয়ারা পড়াশোনা করলেও, সাম্প্রতিক এক ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উর্দু-মাধ্যমের কয়েকজন ছাত্র হিন্দি-মাধ্যমের ছাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করে, যা নিয়ে স্কুল চত্বরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অভিভাবকদের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় ওই ছাত্ররা ছাত্রীদের উদ্দেশে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে এবং অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। এমনকি ধাক্কাধাক্কি ও অনভিপ্রেত শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং সরকারি ভাবে প্রমাণিত নয়।
সভা বাতিল নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু, পুলিশি ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকদের আপত্তির মুখে অভিযুক্ত ছাত্রদের কয়েকজন অভিভাবক স্কুলে এসে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং শিক্ষকদের হুমকি দেন। এই ঘটনায় স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষক মহলের একাংশ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিন্দি-মাধ্যমের ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তাঁদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। এর প্রতিবাদে একদল অভিভাবক স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “এখনও পর্যন্ত সব অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।”
জেলা প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, স্কুলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং, অতিরিক্ত নজরদারি এবং শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোনওভাবেই সামাজিক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না।
এই ঘটনার পর শিক্ষা মহলে ফের প্রশ্ন উঠেছে একই স্কুলে ভিন্ন মাধ্যমের পড়ুয়াদের মধ্যে সমন্বয় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কতটা প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সচেতনতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাও জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দেখতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আবার কোনও গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে একতরফাভাবে দোষারোপ করাও ঠিক নয়। পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর সবার।
সব মিলিয়ে, মুজফ্ফরপুরের এই ঘটনা স্কুলে নিরাপত্তা, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রশ্নে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র ঠিক কী।
