
ওমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন ঘিরে ছিল রাজকীয় আয়োজন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ওমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী সাইয়িদ শিহাব বিন তারিক আল সইদ। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গার্ড অব অনার—সব মিলিয়ে অভ্যর্থনায় ছিল পূর্ণ জৌলুস। তবে এই সফরে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়ে আরেকটি বিষয়—প্রধানমন্ত্রীর বাঁ কানে থাকা ছোট, ঝকঝকে এক ধরনের ‘ইয়াররিং’।
ছবিতে সেটি দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, তবে কি নরেন্দ্র মোদীর নতুন কোনও স্টাইল স্টেটমেন্ট? ফ্যাশন সচেতনতার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী নতুন নন। তাঁর সুচারু কাটের স্যুট, উজ্জ্বল রঙের পোশাক কিংবা একসময় আলোচিত নামখোদাই করা বন্দগলা—সবই জনচর্চার কেন্দ্রে থেকেছে। ফলে ওমান সফরের ছবিতে কানে ঝলমলে কিছু দেখা যেতেই শুরু হয় জল্পনা।
তবে কাছ থেকে দেখা যেতেই পরিষ্কার হয়, এটি কোনও অলংকার নয়। আসলে সেটি ছিল একটি রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেশন ডিভাইস। উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক বৈঠকে ভাষাগত দূরত্ব দূর করতে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ওমানের সরকারি ভাষা আরবি হওয়ায়, বিমানবন্দরে উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এই ডিভাইস ব্যবহার করছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সফর ছিল ভারত-ওমান সম্পর্কের নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। এই চুক্তির ফলে ভারতের প্রায় ৯৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে ওমানের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। অপরদিকে, ভারত ওমান থেকে আমদানি হওয়া খেজুর ও মার্বেলের মতো পণ্যে শুল্ক ছাড় দেবে।
সফরের শেষ লগ্নে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করে ওমান। দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব ওমান’ প্রদান করা হয় তাঁকে। ভারত-ওমান সম্পর্ক জোরদার করতে তাঁর ‘ব্যতিক্রমী অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক নিজে এই সম্মান প্রদান করেন।
ভারতে ফেরার আগে এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এটি ভারত ও ওমানের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতীক।”
কূটনীতি, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে মোদীর এই ওমান সফর তাই শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, প্রতীকী দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে রইল।







