মোদী ফোন না করাতেই বানচাল বাণিজ্য চুক্তি? ট্রাম্পের ‘ইগো’ হার্ট! বিস্ফোরক মার্কিন সচিব

Modi Trump trade deal failure

ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি কেন বাস্তবায়িত হল না? এর পেছনে কি কোনও বড় নীতিগত পার্থক্য ছিল, নাকি কারণটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত? মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। লাটনিক দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভেস্তে যায় সব কিছু। আর এর ফলস্বরূপ ভারতকে গুনতে হচ্ছে ৫০ শতাংশের বিশাল আমদানি শুল্ক।

‘চুক্তি প্রস্তুত ছিল, প্রয়োজন ছিল শুধু মোদীর ফোন’

উদ্যোক্তা চামথ পালিহাপিটিয়ার ‘অল-ইন’ পডকাস্টে লাটনিক জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির যাবতীয় খসড়া তৈরি ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে আলোচনার জন্য ‘তিনটি শুক্রবার’ সময় দিয়েছিল। কিন্তু ভারত সেই সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। লাটনিকের কথায়, “পুরো চুক্তিটি সাজানো ছিল। কিন্তু এটি ছিল ট্রাম্পের নিজস্ব স্টাইলের চুক্তি। তিনি নিজেই এটি সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। প্রয়োজন ছিল শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি ব্যক্তিগত ফোন। কিন্তু ভারত এতে স্বচ্ছন্দ ছিল না এবং মোদী ফোন করেননি।”

   

লাটনিক আরও জানান যে, ভারতের অনীহার সুযোগে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলেছে, যারা এক সময় ভারতের পেছনে ছিল।

ট্রাম্পের ইগো বনাম ভারতের মর্যাদা? Modi Trump trade deal failure

রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করেছিল মোদী ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে তুষ্ট করবেন বা চুক্তিটি সফল করার জন্য তাঁর সহায়তা চাইবেন। কিন্তু মোদী সেই পথে হাঁটেননি। এর আগে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ দাবি করেছিল যে, গত বছর জুলাই মাসে ট্রাম্প মোদীকে চারবার ফোন করার চেষ্টা করলেও মোদী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের অনধিকার চর্চায় ক্ষুব্ধ ছিল নয়াদিল্লি। বিশেষ করে, ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় মোদী কোনো সমর্থন না দেওয়ায় বিষয়টি ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ে রূপ নেয়।

ব্রিটেনের উদাহরণ ও লাটনিকের তুলনা

লাটনিক ভারতের সাথে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর তুলনা টেনে বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন এবং পরদিনই সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির ঘোষণা হয়। ভারতের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সংসদীয় জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছেন তিনি। তবে লাটনিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগে যে শর্তে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, তা এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই। আমেরিকা সেই প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে এসেছে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিনে ট্রাম্প ফোন করার পর দুই নেতার মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে। দীপাবলি এবং গত ডিসেম্বরেও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মোদীর এই আপসহীন মনোভাব কি ভারতের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে? নাকি ২০২৬ সালে নতুন কোনো সমীকরণে পৌঁছাবে দুই দেশ?

দিল্লির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্পের অতিশয়োক্তি এবং অতিরঞ্জিত প্রচারের স্বভাবের কারণেই ভারত সরকার তাঁর সঙ্গে সরাসরি ব্যক্তিগত আলোচনায় অত্যন্ত সতর্ক ছিল।

World: US Commerce Secretary Howard Lutnick reveals that the India-US trade deal failed because PM Modi did not personally call Donald Trump to “close” the deal. Explore how an ego clash led to a massive 50% tariff on Indian goods despite ready drafts.

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন