
কলকাতা: নেতাজির জন্মদিনে বড় চমকের পথে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Modi)। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে ২৩ জানুয়ারী নেতাজির জন্ম জয়ন্তীতে আন্দামান নিকোবর সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নেতাজির মূর্তিতে মালা দিয়ে সেখানেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে চোখ বুলোলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপান এই দ্বীপপুঞ্জ দখল করে আজাদ হিন্দ সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল।
নেতাজি ২৯শে ডিসেম্বর ১৯৪৩ সালে সেখানে পৌঁছান এবং পরদিন ৩০ ডিসেম্বর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। আবার ঠিক একই রকম ভাবে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ারে নেতাজির সাজে এই একই দিনে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১৯৪৩ সালে করা সেই ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
দক্ষিণের বাম মসনদ ছিনিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়া চাল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেদিন নেতাজির মতো সামরিক ইউনিফর্ম বা ছদ্মবেশ ধারণ করেননি। তিনি একটি সাদা রঙের ট্র্যাডিশনাল কুর্তা এবং কোট পরেছিলেন এবং মাথায় একটি বিশেষ টুপি বা ফতুয়া ধরণের কাপড় ব্যবহার করেছিলেন, যা সম্মান প্রদর্শনের অংশ ছিল।
এই দিনেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে আন্দামানের তিনটি দ্বীপের নাম বদলে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের স্মরণে রাখা হবে রস আইল্যান্ডকে ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু দ্বীপ’, নীল আইল্যান্ডকে ‘শহীদ দ্বীপ’ এবং হ্যাভলক আইল্যান্ডকে ‘স্বরাজ দ্বীপ’ করা হয়।
তিনি এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ৭৫ টাকার একটি বিশেষ মুদ্রা এবং ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন। তেমনি এবারেও নেতাজির জন্মদিন ২৩ জানুয়ারী নরেন্দ্র মোদী হয়ত নিয়ে আসতে চলেছেন নয়া চমক। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নেতাজির জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী হয়তো আবারও কোনও ঐতিহাসিক ঘোষণা বা প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে চমক দিতে পারেন। নতুন কোনও স্মারক, পরিকাঠামো প্রকল্প, অথবা নেতাজি-আজাদ হিন্দ ফৌজ সংক্রান্ত বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণাও হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এমন এক নেতা, যাঁকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার মানুষের আবেগ একসূত্রে বাঁধা। তাই তাঁর জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং জাতীয় ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি বড় মুহূর্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন সকলের নজর ২৩ জানুয়ারির দিকে নেতাজির জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঠিক কী নতুন চমক নিয়ে আসেন, সেটাই দেখার।










