তিরুবনন্তপুরম: কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে (Modi)এক জনসভা থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস এখন বহু ক্ষেত্রে মাওবাদী কিংবা মুসলিম লিগের থেকেও বেশি সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কোনও উন্নয়নমূলক এজেন্ডা নেই এবং মুসলিম লিগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা কেরালাকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে কবজা করতে চাইছে।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা মোদীর গ্যারান্টি। আজ আমি আপনাদের কংগ্রেস সম্পর্কে সতর্ক করতে এসেছি। কংগ্রেসের কাছে উন্নয়নের কোনও পরিকল্পনা নেই। বহু ক্ষেত্রে কংগ্রেস মাওবাদী বা এমনকি মুসলিম লিগের থেকেও বেশি সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই জাতীয় স্তরে এখন কংগ্রেসকে ‘এমএমসি’ মুসলিম লিগ মাওবাদী কংগ্রেস বলা হচ্ছে। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের জোট কেরালাকে নিজেদের স্বার্থে দখল করতে চাইছে, তাই সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।”
আন্দামান ও নিকোবরের নাম বদলে ‘আজাদ হিন্দ’ করার দাবি
কেরালার উন্নয়ন থমকে যাওয়ার জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলডিএফ শাসনে শুধু উন্নয়ন থেমে যায়নি, সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ও নিরাপদ নয়। “মানুষ সন্তানের পড়াশোনা বা মেয়ের বিয়ের জন্য যে টাকা জমিয়েছিল, এলডিএফ ও কংগ্রেস নেতারা তা লুঠ করেছে। এদের শাস্তি হওয়া উচিত। বিজেপিকে একবার সুযোগ দিন। যারা আপনাদের লুঠ করেছে, তাদের জবাবদিহি করা হবে এবং প্রতিটি পয়সা উদ্ধার করা হবে,” বলেন মোদী।
পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এই বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলডিএফ ও কংগ্রেস কোনওটাই প্রকৃত পরিকাঠামো নির্মাণে মনোযোগী নয়। তাঁর অভিযোগ, “এরা বড় বড় কেলেঙ্কারিতেই ব্যস্ত। বিজেপি স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে কর্মসংস্থানকে যুক্ত করে কাজ করে। বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই কেরালার সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্ক বিদ্যুতায়িত হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেরালায় এলডিএফ সরকার কেন্দ্রের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প আটকে রেখে রাজ্যের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, নগর উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছনোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে।”
এলডিএফ ও ইউডিএফ উভয় জোটকেই নিশানা করে মোদী বলেন, “পতাকা আলাদা হতে পারে, কিন্তু এদের রাজনীতি এক। ভিন্ন পতাকা, একই এজেন্ডা পুরো দুর্নীতি, শূন্য জবাবদিহি, সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িকতা এবং দায়িত্বহীনতা। সরকার বদলায়, কিন্তু ব্যবস্থা বদলায় না। কেরালার এখন সত্যিকারের নতুন সরকারের প্রয়োজন।”
তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির উত্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেরালার মানুষ বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছেন। এই জয় সাধারণ নয়, ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন। তিরুবনন্তপুরম থেকেই কেরালায় বিজেপির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।” এর আগে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেরালায় চারটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন, যার মধ্যে তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে।
