নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগে মহারাষ্ট্রে ধৃত পুরুলিয়ার মুসলিম শেখ

minor-molestation-case-purulia-muslim-sheikh-arrested-in-maharashtra

নাগপুর/আকোলা, মহারাষ্ট্র: নাবালিকার প্রতি শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক বছর ধরে পলাতক থাকা পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সি মুসলিম শেখকে অবশেষে গ্রেফতার করল মহারাষ্ট্র (Maharashtra) পুলিশ। প্রযুক্তিগত নজরদারির সাহায্যে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বুধবার রাতেই অভিযুক্তকে আকোলা জেলা থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে নাগপুরে এনে পোকসো আইনের অধীনে আদালতে তোলা হলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনা মার্চ ২০২৪-এর

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নাগপুরের এক নাবালিকা কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে মুসলিম শেখের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত প্রথমে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। কিছুদিনের মধ্যেই সে কিশোরীকে একাধিক অশ্লীল বার্তা পাঠায় এবং ব্যক্তিগত ছবির দাবি করে। সেই সঙ্গে একাধিকবার বাড়ির রাস্তা ধরে অনুসরণ করা, শারীরিকভাবে আক্রমণ ও অশোভন আচরণের অভিযোগও ওঠে।

   

ঘটনার পর থেকেই পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে শ্লীলতাহানি, ক্রিমিনাল ইন্টিমিডেশন এবং পোকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা শুরু হয়।

এক বছর ধরে পলাতক—কীভাবে গ্রেফতার?

অভিযুক্ত ঘটনার কিছুদিন পরই নাগপুর থেকে গা-ঢাকা দেয়। প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল, সে পুরুলিয়ায় পালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেখানে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের মতে, গত এক বছরে মুসলিম শেখ একাধিক জায়গায় আশ্রয় বদলাতে থাকে, যাতে পুলিশ তাকে ধরতে না পারে।

শেষ পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, গুগল সার্চ হিস্ট্রি, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও ডিজিটাল পেমেন্ট ট্রেস করে পুলিশ তার নতুন অবস্থান নিশ্চিত করে। সূত্র জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে আকোলা জেলার একটি রেন্টেড রুমে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকেই তাকে পাকড়াও করা হয়।

পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “অভিযুক্ত নিজের পরিচয় বদলে এবং ফোন বন্ধ রেখে বহুদিন লুকিয়ে ছিল। কিন্তু তার আগের ডিজিটাল কার্যকলাপ আমাদের তাকে খুঁজে পেতে সহায়তা করে।”

আদালতে স্বীকারোক্তি, পুলিশি জেরা চলছে

গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মুসলিম শেখ অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে তদন্তকারী সূত্র দাবি করেছে। তবে আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী জানান, অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহ্য করা উচিত নয়। এদিকে আদালত ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

পোকসো মামলায় বাড়ছে অভিযোগ—প্রসঙ্গ উঠল এনসিআরবি-র তথ্য

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের শিশু সুরক্ষা আইন পোকসো-র প্রয়োগ এবং নাবালিকাদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অপরাধের প্রবণতা। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (NCRB) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৯.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা দেশে ওই বছর মোট ১.৯ লক্ষের বেশি শিশু-সংক্রান্ত অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হয়।

সাইবার স্পেসে বাড়তে থাকা কার্যকলাপ ও সামাজিক মাধ্যম নির্ভর যোগাযোগকেও এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণই তদন্তের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

স্থানীয় পুলিশের সতর্কবার্তা

নাগপুর পুলিশ অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, নাবালিকাদের অনলাইনে নজরদারি রাখা প্রয়োজন। অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলা, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য শেয়ার করা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—“এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ দায়ের করা অত্যন্ত জরুরি। দেরি হলে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।”

পরিবারের দাবি—ন্যায়বিচারের অপেক্ষা
নাবালিকা কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করায় তারা স্বস্তি পেয়েছে। তাদের আশা, আদালত যথাযথ বিচার করবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন