
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মীরাটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযোগকারীর (Meerut police attack during raid)বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। হিন্দু এক যুবককে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশ দলের উপর আক্রমণ চালানো হয় বলে অভিযোগ।
হামলায় এক কনস্টেবলকে বিবস্ত্র করে তাঁর সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিনজন পুলিশকর্মী আহত হন। পরে পাল্টা অভিযানে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাঁদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল-সহ একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কড়া নির্দেশিকা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মীরাটের একটি এলাকায় হিন্দু এক যুবককে মারধরের অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে নির্দিষ্ট ঠিকানায় অভিযান চালায়। অভিযুক্তরা হলেন আবদুল কাদির, তালহা এবং গুলাব। পুলিশ পৌঁছনোর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, অভিযুক্তরা আচমকাই পুলিশ দলের উপর চড়াও হয় এবং ইট-পাথর ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়।
এই হামলার সময় এক কনস্টেবলকে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে পুলিশি অভিযোগ। আচমকা হামলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। সংঘর্ষে তিনজন পুলিশকর্মী আহত হন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পৌঁছয়। এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, ধারালো অস্ত্র এবং হামলায় ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া সার্ভিস পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
মীরাটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশ কর্মীদের উপর হামলা, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং দাঙ্গা সৃষ্টির মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাঁদের চিহ্নিত করে গ্র্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল এবং সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশের উপর এভাবে হামলা এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে কতটা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের উপর হামলা শুধু আইন ভাঙার ঘটনা নয়, বরং তা সরাসরি রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। তাই এমন ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
পুলিশ প্রশাসনের দাবি, তদন্তে কোনও রকম পক্ষপাত করা হবে না এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি, আহত পুলিশকর্মীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মীরাটের এই ঘটনা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।










