
করাচি: পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে নতুন ঝড় তুলেছে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (Operation Sindoor) নেতা মৌলানা ফজলুর রহমানের একটি বিস্ফোরক বক্তব্য। করাচির লিয়ারি এলাকায় একটি ধর্মীয় সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং সরকারের দ্বৈত নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “যদি পাকিস্তান আফগানিস্তানে তাদের শত্রুকে লক্ষ্য করে হামলা করাকে ন্যায্য বলে মনে করে, তাহলে ভারতও বাহাওয়ালপুর এবং মুরিদকে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা করাকে ন্যায্য বলতে পারে। তাহলে কেন আপত্তি করছেন?”
এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নীতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন।মৌলানা ফজলুর রহমান, যিনি পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইসলামিক স্কলার এবং বিরোধী দলের নেতা, ‘মজলিস-ই-ইত্তেহাদ-ই-উম্মত’ সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তা ন্যায্য বলে দাবি করে।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত! গ্রেফতার হতে পারেন আপ নেতা
কিন্তু যখন ভারত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুরে বাহাওয়ালপুরে জৈশ-ই-মহম্মদ এবং মুরিদকে লশকর-ই-তৈয়বার ঘাঁটিতে নির্ভুল মিসাইল হামলা চালায়, তখন পাকিস্তান তীব্র প্রতিবাদ করে। “এটা কী ধরনের দ্বিচারিতা? আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা হলে আপনারা কাবুলে বোমা ফেলেন, কিন্তু ভারত যখন কাশ্মীরে হামলার জবাবে পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস করে, তখন চিৎকার করেন?” এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সেনাবাহিনীর নীতির তীব্র নিন্দা করেন।
পটভূমি হলো, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের মাটিতে, এমনকি কাবুলে, টিটিপি নেতা নুর ওয়ালি মেহসুদসহ জঙ্গি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান দাবি করে, এতে বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং এটা তাদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। কিন্তু তালিবান সরকার এতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে এবং প্রতিশোধ নেয়। এর ফলে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ হয়, উভয় পক্ষ থেকে শতাধিক হতাহতের খবর আসে।
পাকিস্তানের এই হামলাকে সমর্থন করে তারা বলে, আফগানিস্তান থেকে টিটিপি পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।অন্যদিকে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর ছিল এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ বেসামরিক নাগরিক হত্যার জবাব।
ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পিওকে-তে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে, যার মধ্যে বাহাওয়ালপুর এবং মুরিদকে অন্যতম। ভারতের দাবি, এগুলো জৈশ এবং লশকরের প্রধান কেন্দ্র, যেখান থেকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। পাকিস্তান এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং প্রতিশোধের চেষ্টা করে, যা ভারত প্রতিহত করে।










