
জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar)নতুন হুমকিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পরিস্থিতি। সম্প্রতি একটি অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, তার সংগঠনে ১০০০-এরও বেশি আত্মঘাতী জঙ্গি (ফিদায়ীন) প্রস্তুত রয়েছে।
এরা অত্যন্ত উদ্দীপ্ত এবং ভারতে অনুপ্রবেশ করে শহীদি মিশন সম্পন্ন করার জন্য মুখিয়ে আছে। আজহারের ভাষায়, “একজন নয়, দুজন নয়, একশো নয় এমনকি এক হাজারও নয়… যদি আমি পুরো সংখ্যাটা বলে দিই, তাহলে বিশ্ব মিডিয়ায় হইচই পড়ে যাবে।”
অজিত দোভাল কি সত্যিই মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না? বাস্তবতা কী বলছে
এই অডিও বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) ইতিমধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক বড় হামলার সঙ্গে যুক্ত ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০১৬-এর পাঠানকোট বিমানঘাঁটি আক্রমণ এবং ২০১৯-এর পুলওয়ামা আত্মঘাতী বোমা হামলা, যাতে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হন। এই সব ঘটনায় জইশের দায় স্বীকার করা হয়েছে।
আজহারের এই নতুন দাবি আসছে এমন এক সময়ে, যখন ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের অপারেশন সিঁদুরে বাহাওয়ালপুরের জইশের প্রধান ঘাঁটি জামিয়া মসজিদ সুবহান আল্লাহ-তে হামলা চালানো হয়। আজহার নিজেই স্বীকার করেছেন যে সেই হামলায় তার পরিবারের ১০ জন সদস্য এবং চার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হয়েছেন। তার বোন, ভগ্নিপতি, ভাগ্নে-ভাগ্নি সহ অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।
এরপরও জইশের প্রধান পাকিস্তানের মাটিতে নিরাপদে রয়েছেন এবং প্রকাশ্যে এমন হুমকি দিচ্ছেন এটাই প্রশ্ন তুলেছে যে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী এই জঙ্গি নেটওয়ার্ককে কতটা সমর্থন দিচ্ছে।ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু প্রচার নয়, বরং সক্রিয় রিক্রুটমেন্ট এবং প্রস্তুতির ইঙ্গিত। জইশ সম্প্রতি নারী শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ গড়ে তুলেছে, যাতে হাজার হাজার নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৫০০০-এরও বেশি নারীকে এই শাখায় যুক্ত করা হয়েছে। এরা আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আজহারের অডিওতে এই ‘উচ্চ প্রেরণা’র কথা বলা হয়েছে, যা তাদের ‘শহাদত’ লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত।ভারত সরকার এই হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান তীব্রতর হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হুমকি শুধু কাশ্মীর নয়, গোটা দেশের জন্য। জইশের নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে রয়েছে এবং তারা অনলাইনের মাধ্যমে রিক্রুটমেন্ট করছে।আন্তর্জাতিক মহলে জইশ ও মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্র সংঘের সন্ত্রাসবাদী তালিকায় রাখা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান এখনও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পাকিস্তানকে আবারও সতর্ক করেছে সন্ত্রাসবাদের এই আশ্রয়দাতা ভূমিকা অব্যাহত থাকলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।










