
মুম্বই: মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এনসিপি(Manikrao Kokate resignation)নেতা মণিকরাও কোকাতের পদত্যাগের ঘটনা। তিন দশকের পুরনো একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অবশেষে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের ক্রীড়া, যুবকল্যাণ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং ওয়াকফ মন্ত্রী মণিকরাও কোকাতে।
১৯৯৫ সালের ওই মামলায় নাসিকের জেলা ও সেশনস কোর্ট তাঁকে দু’বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার সাজা শোনায়। এরপরই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের নির্দেশে তাঁর দফতরগুলো কেড়ে নেওয়া হয় এবং উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ উত্তেজনায় মোদীর উদ্বেগ বাড়ালেন উপদেষ্টা কংগ্রেস নেতা
অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) অজিত পওয়ারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন কোকাতে, যা গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।এই মামলার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। অভিযোগ, মণিকরাও কোকাতে এবং তাঁর ভাই বিজয় কোকাতে জাল নথি ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (ইডব্লিউএস) জন্য সংরক্ষিত মুখ্যমন্ত্রীর ১০ শতাংশ কোটায় নাসিকের একটি প্রাইম লোকেশনে দু’টি ফ্ল্যাট হাতিয়ে নেন।
তৎকালীন সময়ে ইডব্লিউএস কোটায় ফ্ল্যাট পাওয়ার জন্য বার্ষিক আয় ৩০ হাজার টাকার নীচে দেখাতে হতো। কোকাতে ভাইয়েরা মিথ্যা আয়ের শংসাপত্র, জাল রেশন কার্ড এবং অন্যান্য নথি জমা দিয়ে ফ্ল্যাট বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রী তুকারাম দিঘোলে অভিযোগ দায়ের করেন। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
তারপর আপিলে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ নাসিকের সেশনস কোর্ট সেই রায় বহাল রাখে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।রায় ঘোষণার পরই কোকাতে বুকে ব্যথা এবং অস্বস্তি অনুভব করেন বলে মুম্বইয়ের বান্দ্রার লিলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।
এদিকে নাসিক পুলিশের একটি দল গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং বান্দ্রা পুলিশ স্টেশনে পৌঁছায়। পুলিশ সূত্রে খবর, তারা হাসপাতালে গিয়ে পরোয়ানা কার্যকর করার চেষ্টা করবে, যদিও কোকাতের স্বাস্থ্যের কারণে তা স্থগিত হতে পারে। এই ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।










