নয়াদিল্লি: বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর এজলাসে রচিত হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। রাজ্য সরকারের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন মামলায় সশরীরে হাজির হয়ে বিচার চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ও ভার্চুয়ালি যুক্ত কপিল সিব্বলের সওয়ালের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে কথা বলার অনুমতি চান। বিচারপতিরা সুযোগ দিতেই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি বিচার পাচ্ছি না। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ছয়বার চিঠি লিখেছি, কিন্তু একবারও তারা উত্তর দেওয়ার সৌজন্য দেখায়নি। আমি একজন সাধারণ মানুষ, হয়তো তাই আমি কম গুরুত্বপূর্ণ।” আগামী সোমবার অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর করা এসআইআর মামলা ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। (Mamata Banerjee SIR Case)
মাইক্রো অবজার্ভার ও ‘টার্গেট’ বেঙ্গল
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এজলাসে সওয়াল করে অভিযোগ করেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে আসা ৮৩০০ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অবজ়ার্ভাররা অফিসে বসেই খেয়ালখুশিমতো নাম বাদ দিচ্ছেন। ইআরও (ERO)-দের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মমতা প্রশ্ন তোলেন, “শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই কেন নিশানা করা হচ্ছে? ২৪ বছর পর হঠাৎ ৩ মাসে এই কাজের প্রয়োজন কেন পড়ল? এটা ফসল কাটার মরশুম, মানুষ এখন বাড়ির বাইরে থাকে। অথচ এই চাপের মুখে ১০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বহু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।”
মানবিক সংকটের চিত্র
আইনজীবীরা জানান, বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির পদবি ব্যবহার করলে তাকে ‘মিসম্যাচ’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এমনকি অনেক জীবিত মানুষকে মৃত বলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মমতার আক্ষেপ, “বিচারের বাণী আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদছে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার তাগিদে আদালতে এসেছেন।
আদালত এই দীর্ঘ সওয়াল শোনার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।




















