মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের চমক। সামনে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচন, তার আগেই কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে জোট বাঁধলেন ভাইপো অজিত পাওয়ার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।বিধানসভা ভোটের সময় যে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল, তা কি তবে মিটতে চলেছে? নাকি এটা শুধুই স্থানীয় নির্বাচনের কৌশলগত সমঝোতা?
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড়সড় ভাঙন দেখা গিয়েছিল। শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি থেকে বেরিয়ে এসে অজিত পাওয়ার বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দেয়। কাকা-ভাইপোর রাজনৈতিক বিচ্ছেদ শুধু দলের মধ্যেই নয়, পাওয়ার পরিবারেও দূরত্ব তৈরি করেছিল। বিধানসভা নির্বাচনের সময় দুই পক্ষ আলাদা আলাদা পথে লড়াই করে, যার প্রভাব পড়ে ভোটের ফলাফলেও। কিন্তু সময় বদলেছে। পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও কাছাকাছি এলেন শরদ ও অজিত পাওয়ার। সূত্রের খবর, এই পুরসভা এলাকায় এনসিপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে এবং এখানে ভোটের অঙ্ক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদের মোকাবিলা করতে গেলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করাই বেশি লাভজনক—এই সমীকরণ মাথায় রেখেই দুই শিবির সমঝোতার পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই জোটের ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি বৃহত্তর কোনও রাজনৈতিক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত? নাকি শুধুই পুরসভা নির্বাচনের জন্য সাময়িক সমঝোতা? কারণ বিধানসভা ভোটের সময় বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অজিত পাওয়ার যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা এখনও পুরোপুরি বদলেছে—এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট নয়। আবার শরদ পাওয়ারও প্রকাশ্যে এই জোটকে পরিবার পুনর্মিলনের রূপ দিতে চান কি না, তা এখনও পরিষ্কার করে বলেননি।
পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচন মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চল হিসেবে এই এলাকার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এখানে জয় মানে শুধু একটি পুরসভা দখল নয়, বরং রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ। তাই এই নির্বাচনে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পাওয়ার শিবির। একসঙ্গে লড়লে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা কমবে—এই বাস্তবতাই হয়তো কাকা-ভাইপোকে কাছাকাছি এনেছে।
তবে এই জোট নিয়ে দলের অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। শরদ পাওয়ার ঘনিষ্ঠ অনেক নেতা মনে করছেন, অজিত পাওয়ারের সঙ্গে জোটে গেলে আদর্শগত প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার অজিত শিবিরের একাংশের আশঙ্কা, কাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে বিজেপির সঙ্গে সমীকরণে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে। ফলে এই জোট কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সমঝোতা যদি সফল হয় এবং পুরসভা নির্বাচনে ভালো ফল আসে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে কাকা-ভাইপোর একসঙ্গে দেখা যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। আবার অনেকে মনে করছেন, এটি নিছকই স্থানীয় রাজনীতির অঙ্ক, যার সঙ্গে পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেগ জড়িত নয়।
