বর্ষবরণের ‘বেলেল্লাপনা’য় বিরাট ছাড় গেরুয়া সরকারের!

ইংরেজি বছরের শেষ দিন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ (New Year celebrations) রাজ্য সরকারের বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বর্ষবরণ উপলক্ষে বার, রেস্তোরাঁ ও…

maharashtra-new-year-bar-club-extension-controversy-bjp-govt

ইংরেজি বছরের শেষ দিন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ (New Year celebrations) রাজ্য সরকারের বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বর্ষবরণ উপলক্ষে বার, রেস্তোরাঁ ও ক্লাবগুলিকে ভোর ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। সাধারণত যেখানে রাত দেড়টার মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নিয়ম ছিল, সেখানে এই বাড়তি সাড়ে তিন ঘণ্টার ছাড়কে অনেকেই “বেলেল্লাপনার সরকারি লাইসেন্স” বলেও কটাক্ষ করছেন।

Advertisements

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর জারি হওয়া একটি নীতিগত শিথিলতার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এর লক্ষ্য মূলত নববর্ষের সময় পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে বাড়তি আয় নিশ্চিত করা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর মহারাষ্ট্র সরকার একটি সার্কুলার জারি করে রাজ্যজুড়ে ২৪ ঘণ্টা বার ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার (HRAWI) দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে। বড়দিনের আগেও একই ধরনের ছাড় কার্যকর হয়েছিল। এবার নববর্ষে সেই ছাড় আরও জোরদার করল গেরুয়া শিবির-শাসিত সরকার।

   

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বর্ষবরণ মানেই বিপুল পর্যটক সমাগম, দেশ-বিদেশের অতিথিদের ভিড় এবং শহরের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত গতি। বিশেষ করে মুম্বই, পুনে, নাগপুরের মতো বড় শহরে হোটেল, বার, পাব ও ক্লাব ব্যবসার উপর নির্ভর করে হাজার হাজার কর্মসংস্থান। অতিরিক্ত সময় খোলা রাখলে কর্মীদের আয় বাড়বে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং পরিষেবা ক্ষেত্র চাঙ্গা হবে—এই যুক্তিই তুলে ধরেছে প্রশাসন।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া একেবারেই একরকম নয়। অনেকেই রসিকতার সুরে লিখছেন, ভোরের আলো ফুটতেই ক্লাব থেকে বেরিয়ে অফিসযাত্রীদের সঙ্গে “অস্বস্তিকর সাক্ষাৎ” হতে পারে। কেউ আবার বলছেন, নববর্ষের সকালে সমুদ্রসেতু বা বড় রাস্তায় মাতাল চালকের দাপট বাড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে মুম্বইয়ের সি লিঙ্ক, ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ে বা ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ের মতো ব্যস্ত রাস্তাগুলিকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক নাগরিক।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের দাবি, উৎসবের সময় মদ ও খাবারের বিক্রি হঠাৎ করেই কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিছু শিল্পসংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্ষবরণ ঘিরে গোটা দেশে অ্যালকোহল বিক্রি প্রায় ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে রাজ্যের আবগারি দফতরের আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। হোটেল মালিকদের বক্তব্য, কোভিড পরবর্তী সময়ে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

তবে বিরোধীরা এই ছাড়কে আক্রমণের হাতিয়ার করেছে। তাদের অভিযোগ, একদিকে সরকার নৈতিকতা ও সংস্কৃতির কথা বলে, অন্যদিকে বর্ষবরণের রাতে প্রকাশ্যে মদ্যপান ও রাতভর পার্টির অনুমতি দিয়ে দ্বিচারিতা করছে। বিশেষ করে নারী সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা এবং পথদুর্ঘটনার বিষয়টি তুলে ধরে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। বিরোধী নেতাদের একাংশ বলছেন, “রাজস্ব বাড়ানোর লোভে সরকার সামাজিক ঝুঁকিকে উপেক্ষা করছে।”

পুলিশ প্রশাসনের তরফে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হবে। ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পেট্রোল এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্রেথ অ্যানালাইজার চেক, ব্যারিকেড ও নাইট পেট্রোলিং বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বর্ষবরণের আগে মহারাষ্ট্রে গেরুয়া সরকারের এই সিদ্ধান্ত যেমন অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় ছাড় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তেমনই সামাজিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে জোরালোভাবে। উৎসবের আনন্দ আর শৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসন কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

Advertisements