মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আরেক বড় জালিয়াতি চক্র ভেঙে দিল জালগাঁও পুলিশ। সোমবার পুলিশ জানায়, ৪৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা জাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ডার ব্যবহার করে ভারতের বার্থ সার্টিফিকেট সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল। ‘কেস নং ১২৯/২০২৫’-এর তদন্তে উঠে এসেছে সুসংগঠিত নথি জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্তে দেখা যায়, ধৃত ৪৩ জন নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রথমেই বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই উদ্দেশ্যে তারা একাধিক জাল ম্যাজিস্ট্রেট অর্ডার তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়। কিন্তু নথিতে ভাষাগত ও তারিখ সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতি নজরে আসতেই সন্দেহ হয় প্রশাসনের। এরপরই জালগাঁও পুলিশ ও স্থানীয় দপ্তর যৌথ তদন্তে নামে।
২০২৫ সালে মহারাষ্ট্রে বার্থ সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনা লাফিয়ে বেড়েছে। এর আগেও জালগাঁও জেলায় ৪৩টি জাল ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ উদ্ধার হয়েছিল—যার ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী বার্থ সার্টিফিকেট নিতে চাইছিল। একই সঙ্গে গত বছর গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে ৪২ হাজারেরও বেশি ফেক বার্থ সার্টিফিকেট বাতিল করেছে রাজ্য সরকার। পুলিশের মতে, এই বিপুল সংখ্যক ফেক সার্টিফিকেটের বড় অংশই বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ পরিচয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
জাল বার্থ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারলেই পরবর্তীতে প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড ও আধার–সহ অন্যান্য নথি পাওয়া সহজ হয়ে যায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এসব নথি তৈরি করতে সাহায্যকারী দালাল চক্র প্রতি সার্টিফিকেটের জন্য ২০–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিত। বার্থ সার্টিফিকেটকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেই অনুপ্রবেশকারীরা দেশে বহু বছর নির্বিঘ্নে থাকার পরিকল্পনা করেছিল।
এদিকে বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ধৃতদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছেন, যেখানে অধিকাংশের নাম মুসলিম পরিচয় নির্দেশ করে। তাঁর দাবি—মহারাষ্ট্রে লাগাতার অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং এই নথিজাল চক্রের পিছনে শক্তিশালী লবি রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ৪৩ জন বাংলাদেশি বেআইনিভাবে ভারতের বার্থ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছিল। সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।”
যদিও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি—অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোরতা জরুরি, তবে কোনও সম্প্রদায়কে আলাদা করে টার্গেট করা উচিত নয়। প্রশাসনের বক্তব্য—তদন্ত চলবে তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক বক্তব্য অনুযায়ী নয়।
জালগাঁও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, চক্রের মূল পান্ডাদের শনাক্ত করতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং নথি জালিয়াতি আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন—এটি বড় নেটওয়ার্কের একটি ছোট অংশ মাত্র; আরও বহু ফেক বার্থ সার্টিফিকেট চক্র রাজ্যজুড়ে কার্যকর থাকতে পারে।
রাজ্যের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্থ সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ডিজিটাল সিস্টেম আরও কঠোর ও কেন্দ্রীভূত না হলে জাল নথি দমন করা কঠিন হবে। সীমান্ত পেরিয়ে সংগঠিত অনুপ্রবেশ ও ফেক ডকুমেন্ট চক্র যতদিন সক্রিয় থাকবে, ততদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
ফলে স্পষ্ট—শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। চরম জালিয়াতির জাল পেতে বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত আইনের ফাঁদে পড়ল ৪৩ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। মহারাষ্ট্রে নথিজাল চক্র ভাঙার লড়াইয়ের এটি বড় সাফল্য বলেই মত পুলিশের।
