কলকাতা: ২০২৬ সালের শুরুতেই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক দারুণ চমক। আগামী ৩ মার্চ রাতে আকাশের বুক জুড়ে দেখা যাবে এক বিরল দৃশ্য, ‘পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ’। চাঁদের রং ওই রাতে রুপোলি থেকে বদলে গিয়ে হয়ে যাবে গাঢ় তামাটে লাল, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ব্লাড মুন’ (Blood Moon)।
কেন এই গ্রহণ বিশেষ?
সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে এই রাতের চাঁদ হবে একদম আলাদা। যখন পৃথিবী সরাসরি সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। এই সময় সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় নীল আলো বিচ্ছুরিত হয়ে যায় এবং শুধুমাত্র লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোটিই চাঁদের ওপর গিয়ে পড়ে। এর ফলেই চাঁদের ওই অদ্ভুত লাল আভা তৈরি হয়। ২০২৮-২৯ সালের আগে এটিই হতে চলেছে বিশ্বের অনেক প্রান্তের জন্য শেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।
কখন এবং কীভাবে দেখা যাবে? lunar eclipse blood moon visibility
মহাকাশ গবেষকদের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, চাঁদের এই সম্পূর্ণ লাল হয়ে থাকার দশা বা ‘টোটালিটি’ প্রায় ৫৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে উপচ্ছায়া এবং আংশিক পর্যায় মিলিয়ে পুরো গ্রহণটি চলবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। অর্থাৎ, মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে অনেকটা সময় ধরে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
ভারত থেকে কি দেখা যাবে?
ভারতের মহাকাশপ্রেমীদের জন্য খবরটি মিশ্র। ভারতের অধিকাংশ জায়গা থেকেই এটি ‘আংশিক চন্দ্রগ্রহণ’ (Partial Lunar Eclipse) হিসেবে দেখা যাবে।
কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ: ৩ মার্চ বিকেলে চাঁদ ওঠার সময় থেকেই গ্রহণ শুরু হয়ে যাবে। কলকাতায় ৫টা ৪১ মিনিট নাগাদ গ্রহণ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে।
দিল্লি: রাজধানী ও উত্তর ভারতে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিট নাগাদ গ্রহণ স্পষ্ট হতে শুরু করবে।
তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো (অসম, অরুণাচল প্রদেশ) থেকে পূর্ণগ্রাস বা ব্লাড মুনের খুব কাছাকাছি একটি দৃশ্য দেখার সুযোগ মিলতে পারে।
দেখার জন্য কি চশমা লাগবে?
সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কোনো বিশেষ চশমা বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই নিরাপদভাবে এই দৃশ্য দেখা যায়। কেবল একটি পরিষ্কার ছাদ আর এক কাপ চা থাকলেই আপনার সেই রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


