কর্ণাটকে (Karnataka) দুর্নীতি দমন অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য লোকায়ুক্ত। বুধবার কর্ণাটক লোকায়ুক্ত কর্ণাটকের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী বি. জ়মীর আহমেদের ব্যক্তিগত সচিব সারফরাজ খান-এর বাড়ি ও দপ্তরে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। সারফরাজ খানের বিরুদ্ধে আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি (ডিসপ্রোপোরশনেট অ্যাসেটস) সংক্রান্ত মামলা দায়ের করার পরই এই অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছেন লোকায়ুক্ত কর্তৃপক্ষ।
লোকায়ুক্ত সূত্রে খবর, সারফরাজ খান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদে থেকে তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি সম্পত্তি অর্জন করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। বুধবার সকালে বেঙ্গালুরু ও সংলগ্ন এলাকায় তার আবাসন এবং অফিসে একাধিক লোকায়ুক্ত দল একযোগে হানা দেয়। তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সম্পত্তির দলিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মন্ত্রী জ়মীর আহমেদ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ফলে এই অভিযান রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও লোকায়ুক্ত কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণভাবে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই চালানো হচ্ছে, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়।
লোকায়ুক্ত আধিকারিকদের দাবি, অভিযানের সময় নগদ অর্থ, সোনা-রূপার গয়না, জমি-বাড়ির দলিল, দামি গাড়ি ও বিভিন্ন বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১৯.২ কোটি টাকা। তদন্ত এখনও চলমান থাকায় এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লোকায়ুক্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর দেখা যায়, তাঁদের ঘোষিত আয় ও বাস্তব সম্পদের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এরপরই আদালতের অনুমতি নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।
