লিভ-ইন সঙ্গিনীকেও দেওয়া হোক স্ত্রীর স্বীকৃতি, বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

চেন্নাই: লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলারা কোনো আইনি সুরক্ষা পাবেন না, এমনটা হতে পারে না। বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁদের ‘স্ত্রী’-র মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। এক মামলার শুনানিতে…

Live-in relationship legal protection India

চেন্নাই: লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলারা কোনো আইনি সুরক্ষা পাবেন না, এমনটা হতে পারে না। বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁদের ‘স্ত্রী’-র মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। এক মামলার শুনানিতে ভারতীয় ঐতিহ্যের ‘গান্ধর্ব বিবাহ’-এর প্রসঙ্গ টেনে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ।

Advertisements

মামলার প্রেক্ষাপট

তিরুচিরাপল্লী জেলার এক ব্যক্তির আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি এস শ্রীমতী এই মন্তব্য করেন। অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে জড়ান এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। গ্রেফতারির আশঙ্কায় ওই ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

   

‘সাংস্কৃতিক আঘাত’ বনাম বাস্তবতা Live-in relationship legal protection India

বিচারপতি শ্রীমতী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, লিভ-ইন রিলেশনশিপ ভারতীয় সমাজের কাছে একটি ‘সাংস্কৃতিক আঘাত’ (Cultural Shock) হলেও বর্তমানে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক মহিলা আধুনিক হওয়ার তাগিদে এই সম্পর্কে জড়ান, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন যে বিবাহিত নারীদের মতো আইনি সুরক্ষা তাঁদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর নয়।

গান্ধর্ব বিবাহের প্রসঙ্গ

আদালত জানায়, প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে আট ধরনের বিবাহের উল্লেখ আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘গান্ধর্ব বিবাহ’, যেখানে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মতির ভিত্তিতে নারী-পুরুষ একত্রিত হতো। আজকের লিভ-ইন সম্পর্ককেও সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যেতে পারে যাতে মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন। বিচারপতির মতে, এই ‘আধুনিক জালে’ জড়িয়ে পড়া মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়া আদালতের কর্তব্য।

পুরুষদের আচরণের কড়া সমালোচনা

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, পুরুষরা অনেক সময় আইনের এই অস্পষ্টতার সুযোগ নেয়। শুরুতে তারা নিজেদের আধুনিক হিসেবে জাহির করে সম্পর্কে জড়ায়, কিন্তু সম্পর্ক তিক্ত হলে মহিলার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৬৯ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বিয়ের কথা বলে পরে পিছিয়ে গেলে তিনি আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারেন না।

আদালতের সিদ্ধান্ত

বিচারপতি শ্রীমতী সাফ জানান, “যদি বিয়ে করা সম্ভব না হয়, তবে সেই পুরুষকে আইনের কঠোর পরিণতির মোকাবিলা করতে হবে।” এই পর্যবেক্ষণের পর আদালত ওই ব্যক্তির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।

Advertisements