নাগপুরে অতর্কিতে চিতার আক্রমণে আহত ৭

leopard-attack-nagpur-shiv-nagar-ttc-rescue-funding-crisis

নাগপুর: নাগপুরের পার্দির ঘনবসতিপূর্ণ শিব নগর এলাকায় বুধবার ভোর থেকেই আতঙ্ক ছড়ায় (Leopard attack in Nagpur)। সূর্য ওঠার কিছু পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ তাদের গলির ভেতর ঢুকে পড়েছে। মুহূর্তে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা, চিতাবাঘের এদিক-সেদিক দৌড়ে পালানোর মধ্যে সাত জন মানুষ আহত হন। তাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বর্তমানে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে আইসিইউ-তে ভর্তি রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়াতেই সকালের ব্যস্ততার মধ্যে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষজন ঘর ছেড়ে বাইরে বেরোতে সাহস পাননি। ঠিক সেই সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের কিছু পরে নাগপুরের সেমিনারি হিলসের ট্রানজিট ট্রিটমেন্ট সেন্টার (TTC)-এর কাছে পৌঁছায় একটি ফোন। বনদফতরের অভিজ্ঞ সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। তাঁদের অনুমান, রাতের অন্ধকারে চিতাবাঘটি শহরের সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়ে এবং ভোরে মানুষের আনাগোনা বাড়তেই আতঙ্কিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। পালানোর পথ খুঁজতে গিয়ে সে একাধিক মানুষকে আক্রমণ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

   

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মিলবে বাড়তি ১০ মিনিট! কোন শর্তে?

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সরু গলি, বাড়ির দেয়ালের পাশে রাখা জিনিস… এসবের মধ্যে প্রাণীটিকে চিহ্নিত করা যেমন কঠিন ছিল, তেমনই ছিল তাকে নিরাপদে ধরার চ্যালেঞ্জ। শেষমেশ একটি বাড়ির পাশে রাখা কুলারের ফাঁকের মধ্যে চিতাবাঘটি চুপ করে লুকিয়ে পড়ে।

অন্ধকারে ও ভিড়ের মধ্যে সেটিকে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বনফতরের দুই সদস্য প্রাণপণ চেষ্টা করে প্রথম ডার্ট ছোঁড়েন, কিন্তু তাতে পুরোপুরি কাজ হয় না। দ্বিতীয় ডার্ট দেওয়ার পর ধীরে ধীরে চিতাবাঘটি অচেতন অবস্থায় আসে এবং দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এত বড় একটি অপারেশনের মাঝেই ঘটে গেল আরেক বিপত্তি। চিতাবাঘকে নিয়ে যাওয়ার বনদফতরের গাড়িটি মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েন যে প্রাণীটিকে ধরে আনা হয়েছে, তার নিরাপত্তাও তখন প্রশ্নের মুখে। বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা একটি ছোট ভাড়ার গাড়ি নিয়ে পুরো দলকে সরে যেতে হয়। এভাবেই বিপদ ঠেকিয়ে চিতাবাঘটিকে TTC-তে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযানে TTC-র কয়েকজন কর্মী চিতাবাঘের হামলার মুখেও পড়েছিলেন। একজন জ্যেষ্ঠ বনদপ্তর কর্মকর্তা জানান, “আজ তিন জন টিম মেম্বারকে আক্রমণ করেছে। যদি তাঁদের গুরুতর কিছু হতো, তার দায়ভার কে নিত?”

তিনি আরও জানান, TTC-র বেশিরভাগ কর্মীই চুক্তিভিত্তিক নিম্ন বেতন, কোনও বীমা নেই। সরকারি অর্থ বরাদ্দও নাকি তুলনামূলক কম। তাঁর অভিযোগ, “আমরা প্রতি বছর নিয়মিত খরচের জন্য ফান্ড চাই, কিন্তু যে শহরগুলোয় বনই নেই, সেখানে বড় অঙ্কের বরাদ্দ হয়। অথচ নাগপুরের চারপাশে জঙ্গল রয়েছে, বন্যপ্রাণীর গতিবিধিও বেশি। তবুও আমরা অবহেলিত।”

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—এদিন উদ্ধারকাজে বনকর্মীদের কাছে ছিল না সঠিক সুরক্ষা সরঞ্জাম। কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের ইউনিফর্ম নেই, সেফটি শিল্ড নেই। পুলিশ শিল্ড ধার করে কাজ করতে হয়েছে। গাড়িগুলো সার্ভিসিং করানো দরকার, কিন্তু তাও হচ্ছে না।”

তবুও এত দুরবস্থা সত্ত্বেও TTC-র কর্মীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে দিনরাত ছুটে যান। কর্মকর্তার কথায়, “আমাদের টিম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, দৃঢ়। কিন্তু কমপক্ষে ন্যূনতম নিরাপত্তা তো থাকা উচিত!” তিনি আরও বলেন, “মুম্বই, পুনে বা নাসিকে এমন ঘটনা ঘটলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে নড়ে বসে। কিন্তু নাগপুরের মতো শহর, যেখানে এখনও বন্যপ্রাণীর গতিবিধি স্বাভাবিক, সেখানে বারবার অবহেলা করা হয়।”

দিনশেষে চিতাবাঘটির জীবন রক্ষা পেল, নাগরিকদেরও বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলো। কিন্তু নাগপুরের বনকর্মীদের এই সঙ্কট যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—বন্যপ্রাণী উদ্ধার কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এই সাহসী মানুষগুলো কত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন প্রতিদিন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন